‘ডন কিহোতের কথা শুনে তারা একে অপরের মুখের দিকে হাঁ হয়ে চাওয়াচাওয়ি করতে থাকল। কিহোতের কথা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে তাদের মন সায় দিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস না করে পারল না। তারা বুঝতে পারল, ডন কিহোতে আর বাঁচবে না। কারণ, এত দিন অসুস্থ অপলাপের পর হঠাৎ সুস্থ আলাপই ছিল সবচেয়ে বড় লক্ষণ। আর এসব কথার সঙ্গে কিহোতে যুক্ত করেছে অনেক সুন্দর সুন্দর ধর্মের আলাপ।
আর এত সাজিয়ে–গুছিয়ে সে কথা বলছে যে কারও মনে কোনো সন্দেহই রইল না যে কিহোতে তার স্বাভাবিক জ্ঞান–বুদ্ধি ফিরে পেয়েছে।’ (সের্ভান্তেস ১০৯১) দ্বিতীয় খণ্ডের শেষ অধ্যায়ে যখন ডন কিহোতে মারা যাচ্ছে, তখন তার পাশে থাকা লোকজনদের মধ্যে এমনটাই ধারণা জন্মাল, ডন কিহোতে হয়তো আর বাঁচবে না। তার কারণ, ডন কিহোতে তার জ্ঞান-বুদ্ধি-বিবেক ফিরে পেয়েছে। অর্থাৎ কিহোতে তত দিনই বেঁচে ছিল, যত দিন সে কল্পনায় ছিল।
আর যেই তার কল্পনা থেকে চৈতন্য ফিরে এসেছে, সেই সে চলে এসেছে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে।
সূত্র: প্রথম আলো