৩০ বছরের কর্মজীবনের ইতি, বিদায় বেলায় আবেগাপ্লুত দুই শিক্ষক
নিজস্ব প্রতিবেদক,ধরলা পোষ্ট-১ অক্টোবর ২০২৬।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আলহাজ্ব ছাইফুর রহমান ও তৈয়ব আলী দীর্ঘ ৩০ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনেছেন। তাঁদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দুই শিক্ষক।
প্রিয় দুই শিক্ষকের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দুই শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক, বিভিন্ন উপহার ও ভালোবাসায় বিদায় জানানো হয়।
বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক আইয়ুব আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার (মাধ্যমিক) আব্দুস ছালাম।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসা, নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সামছুল হুদা বাবুল মাস্টার, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু, নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার, সাবেক শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলামসহ শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে আলহাজ্ব ছাইফুর রহমান ও তৈয়ব আলী সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নেও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের অবসরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদায়ী দুই শিক্ষক আলহাজ্ব ছাইফুর রহমান ও তৈয়ব আলী বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমরা শিক্ষকতা জীবনের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ ৩০ বছর এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। কর্মজীবনে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। তাঁরা অবসর-পরবর্তী জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। পাশাপাশি কর্মজীবনে তাঁদের কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে সেজন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, দুই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তাঁদের অবদান প্রতিষ্ঠানটি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে প্রিয় দুই শিক্ষককে মাইক্রোবাসে করে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেন সহকর্মী, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিদায় জানাতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও অভিভাবকের চোখে দেখা যায় অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা।