মানুষের পার্থিব জীবন যেন দুটি প্রবল স্রোতের মোহনায় দাঁড়িয়ে থাকা এক তরি। একদিকে জাগতিক জীবনের তীব্র আকর্ষণ—জীবিকা, পরিবার, শিক্ষা, পেশাগত সাফল্য ও ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের অন্তহীন ব্যস্ততা।অন্যদিকে পরকালের অবিরাম ডাক—ইবাদত, আত্মশুদ্ধি, নৈতিক দায়বদ্ধতা ও অনন্ত জীবনের পাথেয় সংগ্রহ।
প্রশ্ন হলো, এই দুই বিপরীতমুখী স্রোতের টানাপোড়েনে একজন মুমিন কীভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে নিজের সঠিক পথটি চিনে নেবে?ইসলামে ভারসাম্যের দর্শন ইসলাম বৈরাগ্যবাদকে সমর্থন করে না; আবার পার্থিব মোহে অন্ধ হয়ে পরকালকে বিসর্জন দিতেও নিষেধ করে। বরং ইসলাম শেখায় দুনিয়াকে পরকালের পাথেয় অর্জনের মাধ্যম বা ‘শস্যক্ষেত্র’ হিসেবে গ্রহণ করতে।
এখানে মানুষ যেমন বীজ বপন করবে, অনন্ত জীবনে তেমনই ফসল ঘরে তুলবে।পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা বলেছেন, ‘আর আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন, তা দিয়ে পরকালের আবাস অনুসন্ধান করো এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না।’ (সুরা কাসাস, আয়াত: ৭৭)পার্থিব জীবনের স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইমাম গাজালি লিখেছেন, ‘দুনিয়া পরকালের জন্য একটি মনজিল বা সরাইখানা মাত্র; শরীর একটি বাহন এবং মানুষের যাবতীয় পার্থিব কাজকর্ম সেই বাহনের রক্ষণাবেক্ষণের উপকরণ।
সূত্র: প্রথম আলো