অর্থনীতি ও বাণিজ্য Desk, ধরলা পোস্ট: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজারে পড়ে থাকা লাখ লাখ অব্যবহৃত সিলিন্ডার পুনরায় চালুর ব্যবস্থা এবং ভোক্তা অধিকারের ‘অযৌক্তিক’ হয়রানি বন্ধের দাবিতে ২ দিনের কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ীরা। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যেও দাবি পূরণ না হলে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানান এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম খান।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশক ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজি গ্যাসের দর নির্ধারণ করলেও কিছু আমদানিকারক ও কোম্পানি নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে। পরবর্তী সময়ে গ্যাসের দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে তা যেন একমাত্র বিইআরসির মাধ্যমেই পরিচালনা করা হয়—সেই দাবি জানান তারা।
ব্যবসায়ী নেতারা আরও জানান, বর্তমানে মাত্র ছয় থেকে সাতটি কোম্পানি বাজারে সক্রিয় রয়েছে। এলসি (ঋণপত্র) খুলতে না পারা ও কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কারণে সারা দেশে বর্তমানে কয়েক লাখ গ্যাস সিলিন্ডার অব্যবহৃত অবস্থায় পেড়ে রয়েছে। এসব পরিত্যক্ত সিলিন্ডারে সরকার বা সক্রিয় কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করে ডিলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এতে ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে এলপিজি কিনতে পারবেন বলে মন্তব্য করা হয়।
একইসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে বাজারে অযৌক্তিক জরিমানা এবং খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের হয়রানির তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন চলাকালেই বিইআরসি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি সেলিম খানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়ে জানান, ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো কমিশন পর্যালোচনা করছে এবং দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।