টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, ধরলা পোস্ট: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দীর্ঘ দুই বছর ধরে কবরস্থানে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর লাশ দাফনের জন্য কবরস্থানে নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অবশেষে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজোট হয়ে রাস্তার মাঝখানে থাকা ঘর ও টিনের বেড়া ভেঙে চলাচলের পথ তৈরি করে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেন।
রবিবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের বিলপালিমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল সালাম। তিনি বিলপালিমা গ্রামের একাব্বর আলীর ছেলে। শনিবার রাতে পাশ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতেই মৃত সালামের লাশ গ্রামে এনে দাফনের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে কবরস্থানে যাওয়ার ১০০ বছরের পুরোনো সাধারণ পথটিতে প্রতিবেশী প্রতিপক্ষরা ঘর ও টিনের বেড়া নির্মাণ করে অবরুদ্ধ করে রাখায় রাতে লাশ কবরস্থানে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিলপালিমা গ্রামের মাতবর মোজাফফর হোসেন ও স্থানীয়রা জানান, ঐতিহাসিক বর্তা বিল সংলগ্ন চলাচলের রাস্তাটি নিয়ে নিহতের পরিবার একাব্বর আলীর সঙ্গে প্রতিবেশী মোতাহের মাস্টার, কবির, মজিদ ও কাশেমের দীর্ঘ দুই বছর ধরে বিবাদ চলছে। বিবাদের জেরে প্রতিপক্ষরা চলাচলের পথের ওপর ঘর তুলে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল।
নিহতের ভাই পুলিশ সদস্য আবু সাঈদ জানান, পথ ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও প্রতিপক্ষ সাড়া দেয়নি। বাধ্য হয়ে রবিবার সকালে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে স্বজনেরা ঐক্যবদ্ধ হন এবং রাস্তার ওপর তুলে দেওয়া সেই ঘর ও বেড়া ভেঙে পথ তৈরি করে সকাল ১১টার দিকে লাশ কবরস্থানে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করেন।
বাংড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহজালাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিপক্ষরা গায়ের জোরে রাস্তার মাঝখানে ঘর তুলে রাখায় লাশ নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। পরে স্থানীয় সচেতন ও ক্ষুব্ধ জনগণ ঘরটি ভেঙে সাময়িকভাবে রাস্তা উন্মুক্ত করে দাফনের ব্যবস্থা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ এলাকা পর্যবেক্ষণ করেছে। লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।