ফরিদপুর প্রতিনিধি, ধরলা পোস্ট: ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থবাণিজ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার জেরে জেলা যুবদলের এক নেতাসহ চারজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত যুবদল নেতার নাম শেখ খোরশেদ আহমেদ ওরফে দোলন। তিনি রামনগর ইউনিয়নের দুলারডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ও জেলা যুবদলের সক্রিয় সদস্য। হামলায় আহত অপর ৩ জন হলেন—একই ইউনিয়নের উত্তর গোপীনাথপুর গ্রামের সুমন তালুকদার (৩৬), গোপালপুর গ্রামের ওয়াজেদ মোল্লা (৫০) ও বাড়ৈইডাঙ্গী গ্রামের মোস্তাক আহমেদ (৫০)।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরকান্দার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে সারের ডিলারশিপের জন্য বহু আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতি ইউনিয়ন থেকে ৩ জন করে যোগ্য প্রার্থীর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠায় উপজেলা কমিটি। সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে মনোনীত ডিলারের তালিকা প্রকাশ করা হলে বিতর্ক ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। রামনগর ইউনিয়নে আবেদনকারী যুবদল নেতা খোরশেদ আহমেদকে বাদ দিয়ে একই এলাকার শিবলী সাদিক ওরফে তুষার মন্ডলকে ডিলার হিসেবে মনোনীত করা হয়।
এর প্রতিবাদে গত রোববার নগরকান্দা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত প্রার্থীরা টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সংবাদ সম্মেলনের জের ধরেই হামলার শিকার হন খোরশেদ ও তাঁর সঙ্গীরা।
আহত খোরশেদের ভাই শেখ ফরিদ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় আমার ভাই বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারে বসে ছিলেন। এ সময় নবমনোনীত ডিলার শিবলী সাদিকের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন সন্ত্রাসী হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। আমার ভাই প্রতিবাদ করায় তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বাঁচাতে এগিয়ে আসা অন্যদের ওপরও একই তাণ্ডব চালানো হয়।’
তবে ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় অভিযুক্ত শিবলী সাদিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মন্ডল ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলীমুজ্জামান বলেন, সারের ডিলার নিয়োগে ক্ষোভ ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এ সংঘাত ঘটেছে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়ার কারণেই মূলত অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ৩ জনের নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল এবং সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। নীতিমালায় শুধু নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রতিনিধিকে নিয়োগ দেওয়ার শর্ত নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হামলার ঘটনায় থানায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।