জাতীয় Desk, ধরলা পোস্ট: ইন্টারনেটের কল্যাণে সীমান্ত পেরিয়ে প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার একটি গ্রামে এসে হাজির হয়েছেন ওয়াং এরলিং নামের এক চীনা যুবক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা চ্যাটিং অ্যাপের সূত্রে গড়ে ওঠা এই প্রেমের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের ঘটনা এটি।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাপাতলী গ্রামের কৃষক মোস্তফা ব্যাপারীর কলেজপড়ুয়া মেয়ে হাফিজা আক্তারের সঙ্গে প্রায় চার মাস আগে ‘ওয়ার্ল্ড টক’ (World Talk) নামক একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয় চীনের হেনান প্রদেশের বাসিন্দা ওয়াং এরলিংয়ের। এরপর নিয়মিত চ্যাট ও ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের মধ্যে কথা হতো। ধীরে ধীরে সেই আলাপ রূপ নেয় গভীর প্রেমে।
প্রেমিকার টানে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চীন থেকে বিমানে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ওয়াং এরলিং। বিমানবন্দর থেকে প্রেমিকার আত্মীয়স্বজনের সহায়তায় প্রথমে হাফিজার বোনের বাসায় ওঠেন তিনি। পরবর্তীতে গতকাল শুক্রবার তাকে সরাসরি মাদারীপুরে হাফিজাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
চীনা এক যুবক প্রত্যন্ত গ্রামে আসার খবর মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখার জন্য হাফিজার বাড়িতে ভিড় জমান শত শত উৎসুক এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজন। এদিকে বিদেশি নাগরিকের আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের লোকজনও তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা চীনা যুবকের পাসপোর্টসহ যাতায়াতের অন্যান্য বৈধ কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করেন।
তরুণী হাফিজা আক্তার জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওয়াং এরলিংয়ের ছবি ও আচরণ তার ভালো লেগেছিল। সেখান থেকেই পরিচয়ের শুরু এবং পরবর্তীতে মনের মিল হওয়ায় ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের পূর্ণ সম্মতিতে তারা পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হতে চান। হাফিজা বলেন, “ওয়াং আমাকে চীনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে, আমিও সেখানে যেতে আগ্রহী। তবে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সব তথ্য ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেব।”
অন্যদিকে চীনা যুবক ওয়াং এরলিং সংবাদমাধ্যমকে জানান, হাফিজাকে ভালোবেসে তিনি বিয়ে করতে চান। প্রয়োজনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম হতেও তার কোনো আপত্তি নেই। বাংলাদেশে আসার আগে নিজ পরিবারের কাছ থেকেও তিনি অনুমতি নিয়েছেন বলে দাবি করেন। চীনের একটি ওয়ার্কশপে কাজ করা এই তরুণ বিয়ে সম্পন্ন করে নববধূকে সঙ্গে নিয়েই নিজ দেশে ফিরে যেতে চান।
মেয়ের বাবা কৃষক মোস্তফা ব্যাপারী এই সম্পর্ক ও বিদেশির আগমন নিয়ে বলেন, “আমার মেয়ে যেখানে ভালো থাকবে এবং সুখে থাকবে, আমি সেখানেই তার বিয়ে দেব। যা কিছু হবে, সম্পূর্ণ সামাজিকভাবে এবং আইনকানুন রক্ষা করেই করা হবে।”
বিদেশি প্রেমিককে নিজের চোখে দেখতে ও তার সাথে কথা বলতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা স্থানীয় আকি ইসলামসহ অনেকেই জানান, ভিনদেশি কাউকে এভাবে নিজ গ্রামে দেখতে পাওয়া এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। বর্তমানে পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারির মাঝে হাফিজার বাড়িতেই অতিথির মর্যাদায় অবস্থান করছেন চীনা তরুণ ওয়াং এরলিং।