জাতীয় Desk, ধরলা পোস্ট: রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় নিজের ও সহযোগীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে প্রকাশ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা এবং সরকার ও দলীয় নীতি-নির্ধারণী মহলে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় হঠাৎ করেই অস্ত্র উঁচিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সহযোগীদের হাতেও প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সচল ও দায়িত্বশীল করার পরিবর্তে একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজে অস্ত্র হাতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এমন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সচেতন নাগরিক সমাজে চরম প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
একই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকার সেবার মান সরেজমিনে দেখতে ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন চালান। প্রধানমন্ত্রীর এই ইতিবাচক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের দিনেই বিকেলে ইশরাকের এই 'অস্ত্রকাণ্ড' পুরো বিষয়টি ম্লান করে দেয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খোদ বিএনপি ও সরকারের একাধিক নীতি-নির্ধারক।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির এক প্রবীণ নেতা জানান, ঘটনাটি আর ইশরাকের একক ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন অসৌজন্যমূলক আচরণের দায় পুরো মন্ত্রিসভার ওপর পড়ে এবং এতে প্রধানমন্ত্রী ও সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইশরাক হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার মধ্য দিয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের আচরণ, প্রটোকল ও জবাবদিহির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর জিরো টলারেন্স নীতি এবং চরম কঠোর অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা দিলেন।