অনিল চন্দ্র রায় :
মাছ ধরার জালে বড়শি নয়, আটকা পড়েছে আস্ত একটি অজগর! কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে চায়না দুয়ারী রিং জালে অজগর সাপ ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সাপটিকে একনজর দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন শত শত মানুষ। অনেকে মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে দেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সাপ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্ধারকর্মীরা অজগরটি উদ্ধার করে রংপুর বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
এর আগে রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের হক বাজারসংলগ্ন ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীর মধ্যবর্তী একটি বিলে পেতে রাখা জালে সাপটি ধরা পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হক বাজার এলাকার কুদ্দুস মিয়ার ছেলে আব্দুস সোবহান ওই বিলে নিয়মিত মাছ ধরার জন্য চায়না দুয়ারী রিং জাল পাতেন। তিন দিন আগে পেতে রাখা জালটি রোববার দুপুরে তুলতে গিয়ে এর ভেতরে অজগরটি দেখতে পান তিনি। পরে কয়েকজন জেলের সহায়তায় সাপটিকে জালসহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে তাঁর বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন উৎসুক মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা জগবন্ধু রায় ও হাবিবুরের ধারণা, অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ থেকে ৭ ফুট। তাঁদের মতে, সাপটি নদীপথে ভারত থেকে আসতে পারে। কারণ, ঘটনাস্থল থেকে তিন থেকে চার কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভারতীয় গিদালদহ সীমান্ত রয়েছে। তবে সাপটির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আব্দুস সোবহান বলেন, তিন দিন আগে বিলে জাল পেতেছিলেন তিনি। রোববার দুপুরে জাল তুলতে গিয়ে অজগরটি দেখতে পান। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেটিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। গত দুই দিনে সাপটি দেখতে তাঁর বাড়িতে হাজারো মানুষ এসেছেন।
শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম মিয়া সোহেল জানান, অজগরটি উদ্ধারের পর নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা বা প্রয়োজনীয় সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। পরে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রংপুর থেকে উদ্ধারকর্মী নুর হাসান নাহিদ ঘটনাস্থলে আসেন।
উদ্ধারকর্মী নুর হাসান নাহিদ জানান, ফুলবাড়ী থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট লম্বা একটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সেটি রংপুর বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিরল এই বন্যপ্রাণী দেখতে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেলেও অজগরটির নিরাপদ সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। মাছ ধরার জালে অজগর আটকা পড়ার ঘটনাটি স্থানীয় মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।