পোস্ট ডেস্ক:
কক্সবাজারের উখিয়ায় পুলিশের অভিযানে দেড় লাখ পিস ইয়াবা ও একটি পিস্তল উদ্ধারের দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। তবে উখিয়া থানা পুলিশের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাকি এক লাখ পিস ইয়াবা ও পিস্তল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ইয়াবা সরিয়ে ফেলা ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উখিয়ার খ্যাংখালী স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালায় বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) কিবরিয়া। এ সময় ছৈয়দুল বশর ওরফে ছিছি নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, অটোরিকশাটি থেকে ১৫ কার্টন বা দেড় লাখ পিস ইয়াবা এবং একটি নাইন এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু পরে পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচটি কার্টনে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানানো হয়। সেখানে পিস্তল উদ্ধারের কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার এক লাখ পিস জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, এসব ইয়াবা পরে মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করা হয়। একই সঙ্গে পিস্তলটি জব্দের তালিকায় না রাখার বিনিময়ে আটক ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এসব অভিযোগে এসআই কিবরিয়ার পাশাপাশি এএসআই সজিবুল ইসলাম ও কনস্টেবল মোহাম্মদ সুজনের নাম এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
স্থানীয় যুবক ওসমান সরওয়ার দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ নিয়ে পুলিশের বিজ্ঞপ্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক রফিক উদ্দিনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে, উপজেলা ছাত্রদলের নেতা মাহবুব আহমদ শাকিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসআই কিবরিয়ার বিরুদ্ধে সীমান্তের চোরাকারবারিদের সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কিবরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ঘটনা নিয়ে তিনি অনেক ফোন পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে যা পাওয়া যাবে, তা প্রকাশ করার কথাও বলেন তিনি। তবে ইয়াবার পরিমাণ, পিস্তল জব্দ না করা কিংবা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, তিনি গত চার দিন ছুটিতে ছিলেন। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে অভিযোগ ছড়ানোর বিষয়ে আপত্তি জানান তিনি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. অহিদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত থাকলে তা দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তদন্তের দাবি
ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম আজাদ। তাঁর মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে জব্দ করা মাদক সরিয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠা উদ্বেগজনক। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত উদ্ধার করা মাদকের পরিমাণ, পিস্তলের বিষয়ে তথ্য এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রকাশ করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ধরলা পোস্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতে পরবর্তী তথ্য প্রকাশ করবে।