কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
বন্যা, নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা দুর্যোগ মোকাবিলায় নারীদের নেতৃত্ব, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে ‘নারী অগ্রগতি’ প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। দুর্যোগের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে মোকাবিলা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে নারীদের আরও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রকল্পটির সূচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইয়ুথ ফর চেঞ্জ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (ওয়াইএফসি-বিডি) ও ইউথনেট গ্লোবালের উদ্যোগে পরিচালিত এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে উইমেন’স পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটেরিয়ান ফান্ড (ডব্লিউপিএইচএফ)। সহযোগিতায় রয়েছে ইউএন ওমেন বাংলাদেশ।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম. কুদরত-ই-খুদা। এ সময় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান, কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, ইয়ুথ ফর চেঞ্জ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের লিড ফিল্ড ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড লোকাল এনগেজমেন্ট জাহিদ কবির, প্রকল্প সমন্বয়কারী জান্নাতুন্নাহার তান্নিসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। প্রকল্পের আওতায় নারীদের দুর্যোগ প্রস্তুতি, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পিস সার্কেল গঠন, পুরুষ সহযোগীদের সম্পৃক্ত করা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় অংশ নেওয়া নারীরা বন্যা ও নদীভাঙনের সময় তাঁদের নানা প্রতিকূল অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তাঝুঁকি, জীবিকা সংকট এবং দুর্যোগকালীন বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, দুর্যোগের সবচেয়ে বেশি প্রভাব যাঁদের জীবনে পড়ে, তাঁদের মধ্যে নারীরা অন্যতম। অথচ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত থাকে। তাই নারীদের শুধু দুর্যোগের ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে নয়, বরং পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে সম্পৃক্ত করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, নারীদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।