মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবদাসের গ্রেপ্তার নিয়ে ডিবি ও থানা পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
ধরলা পোস্ট |
প্রতিবেদক:
DharlaPost
প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবদাসের গ্রেপ্তার নিয়ে ডিবি ও থানা পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবদাসের গ্রেপ্তার নিয়ে ডিবি ও থানা পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
জমি-সংক্রান্ত মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে এসে গ্রেপ্তার
লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার এলাকার মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবদাস রায় বাবুলকে (৫৮) গ্রেপ্তার নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। জমি-সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে এসে সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বর থেকে ডিবি পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে বিকেলে কালীগঞ্জ থানায় এক বছর আগে দায়ের করা একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার দেবদাস রায় বাবুল কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঘনেশ্যাম এলাকার মৃত যতীন্দ্র মোহন রায়ের ছেলে। তিনি তুষভান্ডারের যতীন অ্যান্ড সন্স মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক।
দেবদাসের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম শাহীন বলেন, ‘আদালত চত্বরে আমার টেবিলের সামনে বসেছিলেন দেবদাস। দুপুরের দিকে সেখান থেকে ডিবি পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। পরে ডিবি পুলিশের ওসি রওশান কবীরের কাছে গেলে তিনি আমাকে বলেন, দেবদাসের ওপর মব তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় নিরাপত্তার জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’
আইনজীবী আরও বলেন, ‘পরে দেবদাসকে ছেড়ে না দিয়ে একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।’
তিনি দাবি করেন, দেবদাসের মালিকানাধীন প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ৪০ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে এবং সোমবার ওই মামলার শুনানি ছিল। শুনানির সময় বিবাদীপক্ষের লোকজনও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম শাহীন অভিযোগ করে বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই আদালত চত্বর থেকে একজন নিরীহ মানুষকে তুলে নিয়ে গিয়ে পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’
তবে ডিবি পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। সোমবার দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে লালমনিরহাট গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রওশান কবীর বলেন, ‘আদালত চত্বরে দেবদাস রায় বাবুলের ওপর মব তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তাকে আদালত থেকে এনে আমাদের হেফাজতে রাখা হয়।’
পরে বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে তিনি বলেন, ‘আমাদের হেফাজত থেকে দেবদাস রায় বাবুলকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর কী হয়েছে, তা আমি বলতে পারব না।’
আদালত চত্বরে কারা দেবদাস রায় বাবুলের ওপর মব তৈরি করতে চেয়েছিল—এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি ডিবি ওসি।
অন্যদিকে, কালীগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা ওসি (তদন্ত) ওসমান গনি বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে বলেন, ‘আমরা দেবদাস রায় বাবুলকে লালমনিরহাট শহরের বিজিবি ক্যান্টিনের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করেছি। কালীগঞ্জ থানায় এক বছর আগে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি কী ধরনের, তা এই মুহূর্তে আমার মনে নেই।’
ডিবি ওসির বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিবি পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করেছে। ঘটনাস্থল আদালত চত্বর নয়, বিজিবি ক্যান্টিন এলাকা।’
দেবদাসের স্ত্রী লাবনী রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘জমিটি দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আমার স্বামীকে একটি মামলায় হয়রানিমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমার স্বামী এখন কারাগারে। প্রতিপক্ষের লোকজন যেকোনো সময় জমিটি জোরপূর্বক দখল করতে পারে। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।’
এ বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত আছেন। এক বছর আগে কালীগঞ্জ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী মামলার তদন্তে দেবদাস রায় বাবুলের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘দেবদাস রায় বাবুলের অনুপস্থিতিতে বিরোধপূর্ণ জায়গায় কেউ যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’