advertisement
advertisement

বসতভিটা না থাকার নিয়োগ থেকে বাদ, প্রাথমিকের সুপারিশ প্রাপ্ত ইবি শিক্ষার্থীর আকুতি


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
বসতভিটা না থাকার নিয়োগ থেকে বাদ, প্রাথমিকের সুপারিশ প্রাপ্ত ইবি শিক্ষার্থীর আকুতি

advertisement
বসতভিটা না থাকায় নিয়োগ থেকে বাদ, প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত ইবি শিক্ষার্থীর আকুতি

ধরলা পোস্ট ডেস্ক : ২ অক্টোবর ২০২৬
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশ পেয়েও স্থায়ী ঠিকানায় নিজের নামে বসতভিটা না থাকায় নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য। তাঁর দাবি, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপজেলা পর্যায়ে ১৭তম স্থান অর্জন করলেও শুধু বসতভিটা না থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতার মুখে পড়েছেন তিনি।

মিশন আচার্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায়। ছোটবেলা থেকেই মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন তিনি। তাঁর বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় মা বাসাবাড়িতে কাজ করে তাঁকে বড় করেছেন বলে জানান মিশন।

মিশনের ভাষ্য, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমিজমা-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—এমন ধারণা থেকে তাঁর খালু গ্রামের বাড়িতে তাঁর নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। পুলিশি তদন্তের সময় তিনি ওই জমির দলিলও জমা দেন। তবে ওই জমিতে কোনো বসতবাড়ি নেই এবং তিনি কখনো সেখানে বসবাস করেননি।
তিনি জানান, তদন্তের সময় ভূমিহীন সনদ প্রয়োজন কি না জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জমির দলিল জমা দিতে বলা হয়। সে অনুযায়ী দলিল জমা দেওয়ার পর স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকার বিষয়টি সামনে আসে এবং তাঁকে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মিশন আচার্য বলেন, “আমার মা বাসাবাড়িতে কাজ করে আমাকে বড় করেছেন। আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই। আমার প্রশ্ন—ভাড়া বাসায় জন্ম নেওয়াটা কি আমার অপরাধ? রাষ্ট্রের কাছে আমার মেধা ও পরিশ্রমের চেয়ে জমিজমার মূল্য কি বেশি?”

তিনি আরও জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং অপরজন তিনি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, মিশন আচার্যের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে লিখিতভাবে শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের আশা করছেন তিনি।

মিশন আচার্য তাঁর নিয়োগের বিষয়টি মানবিক ও বিধিসম্মতভাবে পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর