কুড়িগ্রামে বিতর্কিত শিক্ষক বদলি আদেশ স্থগিত, ফের কমিটির সভা সোমবার
ধরলা পোস্ট |
প্রতিবেদক:
DharlaPost
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আন্তঃউপজেলা নয়, একই উপজেলার ভেতরে বদলির বিতর্কিত আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বদলি আদেশের ত্রুটি সংশোধনে আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) ফের সভা আহ্বান করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক কমিটি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কমিটির সভাপতি মাহমুদুল হাসান এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্য সচিব আবু বকর সিদ্দীক।
এর আগে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১২ জন সহকারী শিক্ষককে বদলির আদেশ জারি করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক কমিটি। এরপরই অভিযোগ ওঠে, রাজনৈতিক চাপ ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রাপ্যতা না থাকা ৮ জন শিক্ষককে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তৎপরতা শুরু হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দীক বলেন, “বদলির আদেশ আপাতত স্থগিত রয়েছে। ইউএনও স্যার আমাকে সেভাবেই মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আমিও চেয়েছি বদলির আদেশটি বাতিল হোক। আগামী সোমবার কমিটি আবার সভা করে বদলি আদেশ সংশোধন করবে।”
নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “বদলি নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা আমি অস্বীকার করছি না। আমি অসহায়। চাপ নিতে পারছি না। আমাকে একটি তালিকা দিয়ে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে। আমি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছি। আমি চাই আদেশটি বাতিল হোক।”
ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, “প্রকাশিত বদলির আদেশ স্থগিত রয়েছে। আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) আবার সভা আহ্বান করেছি। বদলি আদেশের ত্রুটিগুলো দূর করা হবে।”
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে বদলির জন্য ৪৩ জন সহকারী শিক্ষক আবেদন করেন। শুধুমাত্র শূন্য পদের বিপরীতেই এসব আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। আবেদনের শেষ সময় ছিল ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা।
বদলি-সংক্রান্ত নথিপত্র ও আদেশ যাচাই করে দেখা যায়, ১২ জন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজনের ক্ষেত্রে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আবেদনের সময় শেষ হওয়ার পর তালিকা পরিবর্তন করে নতুন করে কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করারও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের পাঁচটি নির্দেশনার মধ্যে চারটিই লঙ্ঘন করা হয়েছে। শূন্য পদের বিপরীতে বদলির নির্দেশনা থাকলেও প্রকাশিত তালিকায় শূন্য পদ নেই—এমন বিদ্যালয়েও শিক্ষক বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠতার নীতিও লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। আবেদন করেননি এমন শিক্ষককেও বদলির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে বদলির প্রাপ্যতা থাকা অনেক শিক্ষক বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, রাজনৈতিক চাপ ও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে অনিয়মের মাধ্যমে ওই বদলি আদেশ দেওয়া হয়েছে। তারা বিতর্কিত আদেশ বাতিল করে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে নতুন করে বদলি আদেশ জারির দাবি জানিয়েছেন।