advertisement
advertisement

সেতু আছে, নিরাপত্তা নেই: সোনাহাটে জোড়াতালির সেতুতে ঝুঁকির যাতায়াত


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
সেতু আছে, নিরাপত্তা নেই: সোনাহাটে জোড়াতালির সেতুতে ঝুঁকির যাতায়াত

advertisement
ধরলা পোস্ট প্রতিবেদক: 
দুধকুমার নদের ওপর দাঁড়িয়ে আছে একটি পুরোনো সেতু। সেতুটির বয়স পেরিয়েছে শত বছর, নির্ধারিত আয়ুষ্কালও শেষ হয়েছে প্রায় চার দশক আগে। তবুও বিকল্প না থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও অসংখ্য যানবাহনকে এই সেতুর ওপর দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। 
জোড়াতালির মেরামতে কোনোভাবে টিকে থাকা দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে দুর্ভোগের আরেক নাম।
১৮৮৭ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সোনাহাট সেতুটি একসময় এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম ছিল। বর্তমানে সেতুটির বিভিন্ন অংশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। স্টিলের পাটাতন ভেঙে গেছে, কোথাও লোহার পাত খুলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বারবার মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
সম্প্রতি সেতুর একটি স্টিলের পাটাতন দেবে গেলে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনা এড়াতে সেখানে লাল পতাকা টানানো হয়। পরে মেরামতকাজের জন্য পরদিন সকাল পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে সেতুর দুই পাশে আটকে পড়ে বিভিন্ন যানবাহন। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন পাথরবোঝাই ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, বাস, অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল করে। সোনাহাট স্থলবন্দর চালুর পর ভারী যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে। ফলে পুরোনো সেতুটি এখন যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
শিক্ষার্থীদেরও ভোগান্তির শেষ নেই। ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির ফাহিম বলেন, সেতুতে যানজট ও যানবাহনের ধীরগতির কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে কলেজে পৌঁছানো যায় না।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর প্রবেশ ঠেকাতে সেতুটির একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। পরে তা মেরামত করে আবারও যোগাযোগব্যবস্থা চালু করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের তিন ইউনিয়ন এবং কচাকাটা থানার চার ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই সেতু।
তবে আশার কথা ছিল নতুন সেতু নির্মাণ। পুরোনো সেতুর দক্ষিণ পাশে ২০১৯ সালে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাত বছর ধরে নির্মাণকাজ চললেও এখনো শেষ হয়নি। ফলে পুরোনো সেতুর ঝুঁকি আর নতুন সেতুর দীর্ঘসূত্রতা—দুইয়ের মাঝখানে আটকে আছে সোনাহাট এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা।
সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা নানা সমস্যায় পড়ছেন। নতুন সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, পুরোনো সেতুর ওপর জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর সংস্কার ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নতুন সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা হোক। তাদের আশঙ্কা, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 
advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর