বিয়ের বাড়িতে আনন্দের বদলে শোক, পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
ধরলা পোস্ট |
প্রতিবেদক:
DharlaPost
প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
বিয়ের বাড়িতে আনন্দের বদলে শোক, পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
বিয়ের বাড়িতে আনন্দের বদলে শোক, পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
রংপুর অফিস | ধরলা পোস্ট | ১ অক্টোবর ২০২৬
নতুন বউকে ঘিরে বাড়িতে চলছিল আনন্দ-উৎসব। আত্মীয়স্বজনের ভিড়, অতিথি আপ্যায়ন আর হাসি-আনন্দে মুখর ছিল পুরো বাড়ি। এরই মধ্যে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর। মুহূর্তেই বিয়ের আনন্দ পরিণত হয় কান্না আর আহাজারিতে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের আরাজি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো—বদরগঞ্জ উপজেলার চম্পাতলী মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের রুপা রানী (১০) এবং তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের কাচনা গ্রামের পঞ্চমী রানী রায় (৮)। তারা সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো বোন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে আরাজি গ্রামের রতন চন্দ্র রায়ের সঙ্গে তারাগঞ্জের কাংলাচড়া গ্রামের এক তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়েতে যোগ দিতে রতনের বোন ওমালা রানী তার মেয়ে রুপাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আসেন। একইভাবে রতনের বড় ভাই অজয়ের শ্যালিকা মিনতি রানী রায় তার মেয়ে পঞ্চমীকে নিয়ে কাচনা গ্রাম থেকে আসেন।
বুধবার বিয়ের পরবর্তী ‘ফিরানি’ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বাড়িতে স্বজনদের উপস্থিতি ছিল। দুপুরের দিকে রুপা ও পঞ্চমী গোসল করতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। তারা আর ফিরে না আসায় স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজনও বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন।
একপর্যায়ে আরাজি গ্রামের সুধীর রায়ের পুকুরে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়। স্থানীয়রা পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি করে বেলা ৩টার দিকে পানির নিচ থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন।
মেয়ের মরদেহের পাশে বিলাপ করতে করতে রুপার মা ওমালা রানী বলেন, “মামার বিয়েতে আনন্দ করবে বলে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলাম। কত খুশি ছিল সে। এখন মেয়েটা আমার সামনে পড়ে আছে, কথা বলছে না, মা বলে ডাকছে না। মেয়েকে বিয়ের আনন্দ দেখাতে এনেছিলাম, এখন তার লাশ নিয়ে কীভাবে বাড়ি ফিরব?”
অন্যদিকে পঞ্চমীর মা মিনতি রানী মেয়ের মৃত্যুতে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফেরার পর মেয়ের মরদেহের কাছে ছুটে যেতে চাইলে স্বজনেরা তাকে সামলে রাখেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “বিয়ের খুশি মোর কপালে দুঃখ আনিল। মুই এখন মাওক কোনঠে পাইম। ওর বাপোক কী জবাব দেইম? মোর মাও কথা কওছে না কেন?”
স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল হোসেন বলেন, “যে বাড়িতে কিছুক্ষণ আগেও বিয়ের আনন্দে আত্মীয়স্বজনের ভিড় ছিল, এখন সেই বাড়িতেই কান্নার রোল। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। স্থানীয়রাই পুকুর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।”
বিয়ের আনন্দের মাঝে দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।