রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কবীর-লালন মরমি সংগীত উৎসব
ধরলা পোস্ট |
প্রতিবেদক:
DharlaPost
প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কবীর-লালন মরমি সংগীত উৎসব
‘কবীর-লালনের মরমি সংগীত শুধু বিশ্বসংগীত নয়, মহাজাগতিক ভাবসংগীত’
রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কবীর-লালন মরমি সংগীত উৎসব
রংধরলা পোস্ট :
দেশের আট বিভাগব্যাপী লালনবিশ্বসংঘ আয়োজিত কবীর-লালন মরমি সংগীত উৎসবের ষষ্ঠ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় রবিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পী, গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগীতানুরাগীরা অংশ নেন।
উৎসবের উদ্বোধনকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “অতুলনীয় অবদান ও সার্বজনীন আবেদনের কারণে কবীর-লালনের সুর দেশ-কাল ও বিভাজনের গণ্ডি পেরিয়ে আজ বিশ্বসংগীতের অংশ হয়ে উঠেছে। কবীর-লালনের সংগীত শুধু আধ্যাত্মিকতার বিষয় নয়, এটি মহাজাগতিক ভাবসংগীত।”
তিনি বলেন, এ উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ যেমন লালনের মধ্য দিয়ে কবীরকে নতুনভাবে জানার সুযোগ পাবে, তেমনি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষও কবীর ও লালনের মানবতাবাদী দর্শন ও সংগীতের নিবিড় সম্পর্ক উপলব্ধি করতে পারবে।
অধ্যাপক ড. শওকাত আলী আরও বলেন, উপমহাদেশের প্রাতঃস্মরণীয় এই দুই মহৎ ব্যক্তিত্বের ভাবাদর্শ মানুষকে সব সময় সত্য, সুপথ ও মানবকল্যাণের দিকে আহ্বান করে। তাদের দর্শন ও সৃষ্টির বহুমাত্রিক চর্চা ও বিস্তার আজ সময়ের দাবি। এ ধরনের আয়োজন সেই চর্চাকে আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি লালনবিশ্বসংঘের এ আয়োজনকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিবছর এ ধরনের সার্বজনীন উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে কবীর ও লালনের মানবতাবাদী দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত রংপুর বিভাগীয় এ উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। তিনি বলেন, “কবীর-লালনকে নিয়ে মানুষের মনে অসীম কৌতূহল ও আগ্রহ রয়েছে। তাদের জাগতিক ও পারত্রিক জীবনদর্শনের গভীরতা এবং সংগীতের অসাধারণ সমন্বয়ের কারণেই তারা আজও মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।”
জেলা প্রশাসক বলেন, কবীর ও লালনের দর্শন নিয়ে আরও ব্যাপক অনুসন্ধান, গবেষণা ও তুলনামূলক অধ্যয়নের প্রয়োজন রয়েছে। তাদের সাহিত্য, দর্শন, সংগীত ও মানবতাবাদী চিন্তার মধ্যে যে সাদৃশ্য ও আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে, তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুবুর রশীদ। তিনি কবীর-লালনের দর্শনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সুফি গবেষক মাওলানা আবদুল জলিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালনবিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও কবীর-লালন গবেষক আবদেল মান্নান।
উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মূল সাংস্কৃতিক আয়োজন। ‘কবীর থেকে লালন: চিরন্তন প্রেমের এক অক্ষয় সেতুবন্ধন’ শীর্ষক সংগীতালেখ্য পরিবেশন করেন কবীর ও লালন মিউজিক মিশনের শিল্পীরা। সংগীত ও পরিবেশনার মাধ্যমে এ সময় কবীর ও লালনের দর্শন, মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, আধ্যাত্মিকতা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের চিরন্তন সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরা হয়।