উলিপুরে মাদরাসায় গোপনে নিয়োগের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টার দাবি
ধরলা পোস্ট |
প্রতিবেদক:
DharlaPost
প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া বালারচর নাছিরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসায় তথ্য গোপন করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিরাপত্তাকর্মী, পিয়ন ও ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে গোপনে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে শনিবার (৩ অক্টোবর) মাদরাসায় বোর্ডের প্রতিনিধিরা এলে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা তাদের ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনটি পদে নিয়োগের বিষয়ে যথাযথভাবে প্রচার না করেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা মাদরাসায় জড়ো হন। এ সময় বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
একাধিক স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাদের দাবি, ঘটনার দিন এক লাখ টাকা এবং আগামী বুধবার বাকি ছয় লাখ টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মাদরাসার একাধিক সূত্র। তাদের দাবি, মাদরাসার আলিম শাখায় বিজ্ঞান বিভাগ চালু নেই। ফলে ওই পদটির অনুমোদন না থাকলেও অধ্যক্ষ তাঁর ছেলেকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এর আগে একই প্রতিষ্ঠানে অর্থের বিনিময়ে আরও দুটি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান তিনটিসহ মোট পাঁচটি নিয়োগে প্রায় ৭০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে মাদরাসায় গিয়ে অধ্যক্ষ মোবাশ্বের রাশেদীনকে পাওয়া যায়নি। ভাইস প্রিন্সিপাল রফিকুল ইসলাম জানান, অধ্যক্ষ তিন দিনের ছুটিতে রয়েছেন। নিয়োগের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। অন্য শিক্ষকরাও একই কথা জানান।
মাদরাসার শিক্ষক প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কেউই নিয়োগের বিষয়ে কিছু জানি না।’
বিদ্যোৎসাহী সদস্য সহকারী অধ্যাপক নুরুন্নবী বাশার বলেন, ‘এ নিয়োগের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আমাদের না জানিয়ে গোপনে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, তথ্য গোপন করে অর্থের বিনিময়ে অধ্যক্ষের ছেলে ও ভাগিনাসহ পাঁচটি নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মোবাশ্বের রাশেদীন বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষা নিয়মনীতি মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে। শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।’
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’