advertisement
advertisement

জমি নিয়ে বিরোধ সাংবাদিকের মা- বাবাকে পেটালো ‘ভূমি দস্যুরা’, থানায় মামলা


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ
জমি নিয়ে বিরোধ সাংবাদিকের মা- বাবাকে পেটালো ‘ভূমি দস্যুরা’, থানায় মামলা

জমি নিয়ে বিরোধ সাংবাদিকের মা- বাবাকে পেটালো ‘ভূমি দস্যুরা’, থানায় মামলা

advertisement
জমি নিয়ে বিরোধ
সাংবাদিকের মা- বাবাকে পেটালো ‘ভূমি দস্যুরা’, থানায় মামলা

দরলা পোস্ট :
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকার প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগের মা- বাবাকে মারধর, শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা ও নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পাঁচজন ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাংবাদিকের পিতা আহত মো. আমিনুল ইসলাম কুড়িগ্রাম সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর স্ত্রী শামসাদ বেগমও চিকিৎসা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার পলাশবাড়ী কবিরাজ পাড়া এলাকায় নিজ জমি দেখতে গেলে ভূমি দস্যু রমজান আলী, মামুনুর রশিদ মামুন, মনোয়ারা বেগম তাদের উপর হামলা করে মারধর করে। ঘটনার দিনই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে ভুক্তভোগীর পরিবার। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার ৪ দশমিক ১৬ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওই জমি তাঁর বাবা আমিনুল ইসলাম ক্রয়সূত্রে পাওয়ার পর প্রায় ৩৪ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। জমিটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। এ নিয়ে কুড়িগ্রাম সদর সিভিল জজ আদালতে ২৬৮/২০২৫ নম্বর দেওয়ানি মামলাও চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ গত সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে তামজিদ হাসানের বাবা-মা তাদের কেনা জমিতে ইউক্যালিপটাসের চারা রোপণ করতে যান। এ সময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া আসামিরা বাঁশের লাঠি ও লোহার রড নিয়ে তাঁদের বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে রমজান আলী বাঁশের লাঠি দিয়ে আমিনুল ইসলামের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি তাঁর ডান চোখের নিচে লাগে। এতে ওই স্থানে কালো ও ফোলা জখম হয়। এরপর কয়েকজন আসামি লোহার রড দিয়ে আমিনুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। একপর্যায়ে মামুনুর রশিদ মামুন তাঁর বুকের ওপর বসে দুই হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় শামসাদ বেগম এগিয়ে এসে তাঁকে সরিয়ে দিলে আমিনুল ইসলাম রক্ষা পান।
এজাহারে আরও বলা হয়, এ সময় মনোয়ারা বেগম শামসাদ বেগমের চুলের মুঠি ধরে টানা-হেঁচড়া করেন এবং রমজান আলী তাঁর পড়নের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন।

চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। গুরুতর আহত আমিনুল ইসলামকে স্থানীয় লোকজন অটোরিকশায় করে কুড়িগ্রাম সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর স্ত্রী শামসাদ বেগম স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিক তামজিদ হাসান বলেন, "বিবদমান জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। আমার বাবা মা আমাদের কেনা জমিতে চারা রোপন করতে যায়। সেখানে বিবাদীরা আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। তারা আমার বাবা-মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। আমি দ্রুত আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।"

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। বিবাদী পক্ষও আরেকটি মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর