advertisement
advertisement

ঋণ না পেয়ে গভীর রাতে ভল্ট ভাঙতে ব্যাংকে হানা ইলেকট্রিক মিস্ত্রির!


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
ঋণ না পেয়ে গভীর রাতে ভল্ট ভাঙতে ব্যাংকে হানা ইলেকট্রিক মিস্ত্রির!

ঋণ না পেয়ে গভীর রাতে ভল্ট ভাঙতে ব্যাংকে হানা ইলেকট্রিক মিস্ত্রির!

advertisement

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি, ধরলা পোস্ট: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এক শাখায় নৈশপ্রহরীকে অস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি ও রশি দিয়ে বেঁধে ভল্ট ভেঙে টাকা চুরির দুঃসাহসিক চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে প্রহরীর সময়োপযোগী বুদ্ধিমত্তা এবং টহল পুলিশ ও স্থানীয়দের সতর্কতায় ভেস্তে গেছে সেই চেষ্টা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাওসার (২২) নামের এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার সোহাগী বাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শাখায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তারকৃত কাওসার উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বৃ-কাঁঠালিয়া গ্রামের কৃষক রতন মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি।

পুলিশ ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পেশায় মিস্ত্রি কাওসার মাত্র ৩ মাস আগে বিয়ে করেন। বিয়ের কারণে প্রায় ২ লাখ টাকার পারিবারিক ঋণের চাপে পড়েছিলেন তিনি। কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে চুরির পথ বেছে নেন তিনি। ঘটনার রাতে কাওসার ব্যাংকের বাইরের শাটার ও ভেতরের সুরক্ষামূলক গ্রিলের তালা কৌশলে ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। পরবর্তীতে ভেতরের একটি দরজা ঠেলে ব্যাংকে প্রবেশ করে দায়িত্বে থাকা নৈশপ্রহরী মাজহারুল ইসলাম সাগরকে ধারালো ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ভল্টের চাবি ও টাকার অবস্থান জানতে চান।

এরপর কাওসার নৈশপ্রহরীকে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রেখে টাকার ভল্টের তালা ভাঙার চেষ্টা চালান।

ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে নৈশপ্রহরী মাজহারুল ইসলাম সাগর জানান, “আমি রাতে ঘুমে ছিলাম। হঠাৎ এক যুবক ঘরে ঢুকে বুকে ছুরি ধরে চিল্লাচিল্লি না করতে বলে এবং রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। কিন্তু ভাগ্যের জোর ও ওপরওয়ালার দয়ায় বাঁধন কিছুটা ঢিলে থাকায় আমি কৌশলে নিজেকে মুক্ত করে দ্রুত ভবন থেকে নিচে নেমে চিত্কার শুরু করি।”

তাঁর চিত্কারে বাজারে দায়িত্বে থাকা পাহারাদার, কাছেই থাকা টহল পুলিশ ও স্থানীয় অধিবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ব্যাংকের ভেতর থেকে কাওসারকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন জানান, “আমাদের নিরাপত্তাকর্মীর সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিমত্তার কারণেই বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে ব্যাংক রক্ষা পেয়েছে। ব্যাংকের কোনো অর্থ খোয়া যায়নি এবং ক্যাশ ভল্টের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ওই যুবক ঋণ নেওয়ার জন্য পূর্বে কখনো এই শাখায় আসেননি।”

এ ঘটনায় ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাওসার ঋণের দায়ে চুরির চেষ্টা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন। বিয়ের খরচ যোগাতে তিনি এই দেনাগ্রস্ত হন। এই চুরির চক্রান্তের পেছনে অন্য কেউ ইন্ধন জুগিয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তাঁকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে সোপর্দ করা হবে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর