advertisement
advertisement

বিনামূল্যে মিলছে আলো, বিলে বিলে শাপলা তুলে জীবিকা নির্বাহ করছেন ৩ হাজার পরিবার


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
বিনামূল্যে মিলছে আলো, বিলে বিলে শাপলা তুলে জীবিকা নির্বাহ করছেন ৩ হাজার পরিবার

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বর্ষায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতি: শাপলা বিক্রি করে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান

advertisement


ধarlaPost ডেস্ক:গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা একটি নিচু ও বিল অধ্যুষিত এলাকা। বর্ষার আগমনে এখানকার খাল-বিল ও নদী-নালা পানিতে কানায় কানায় ভরে ওঠে। আর এ পানিতেই প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় জাতীয় ফুল শাপলা। কোনো ধরনের পুঁজি ছাড়াই বিল থেকে শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে এখন জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন এলাকার প্রায় তিন হাজার পরিবার।

অলস সময়ে বেকারত্ব দূর ও উপার্জনের পথ:

বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চল ও বিলের জমিগুলো প্লাবিত হওয়ায় কৃষকদের সাধারণত কোনো কাজ থাকে না। এই বেকার সময়ে কৃষিশ্রমিক, বেকার যুবক এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ শাপলা সংগ্রহের কাজে নেমে পড়েন। সকালের আলো ফোটার আগেই নৌকা নিয়ে তারা নেমে পড়েন বিলে। কাশিয়ানীর সিংগা, রাহুথড়, হাতিয়াড়া ও শিল্টাসহ নানা বিলে ঘুরে ঘুরে শিশু থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ সবাই শাপলা সংগ্রহ করেন।

গড়ে উঠেছে জমজমাট পাইকারি বাজার:

শাপলা বিক্রিকে কেন্দ্র করে কাশিয়ানীর রাহুথড় এলাকায় গড়ে উঠেছে এক বিশাল পাইকারি বাজার। ভোরে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই আশপাশের গ্রাম ও প্রত্যন্ত বিল অঞ্চল থেকে নৌকায় করে শাপলা সংগ্রহকারীরা এই বাজারে জমা হন। সাদা ও লাল শাপলার আভায় ঢেকে যায় পুরো বাজার এলাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই শাপলা ভ্যান, নছিমন ও ইজিবাইকযোগে গোপালগঞ্জ সদর, যশোর, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল ও লোহাগড়াসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

রাহুথড় আড়তের ইজারাদার শংকর কুমার বসু জানান, "প্রতিদিন সকালে শত শত মানুষ শাপলা এনে এখানে বিক্রি করেন। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ গাড়ি শাপলা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।"

সংগ্রহকারীদের মুখে আশার আলো:

বিলে ডুবে যাওয়া বোরো বা আমন ধানের ক্ষেত এবং পাটক্ষেত থেকেই শাপলা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। গত ১০ বছর ধরে এই পেশায় যুক্ত গোবিন্দ বিশ্বাস বলেন, "বর্ষার দিনে কাজের অভাব থাকে। আমি প্রতিদিন ভোর রাতে বিলে গিয়ে ৫ থেকে ৭ শত টাকার শাপলা সংগ্রহ করি এবং বাজারে বিক্রি করি। এতেই আমার সংসার সুন্দরভাবে চলে যায়।"

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর