advertisement
advertisement

কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ঝুঁকি: লাইসেন্সিং ও মাঠ পর্যায়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণের তাগিদ


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ঝুঁকি: লাইসেন্সিং ও মাঠ পর্যায়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণের তাগিদ

কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ঝুঁকি: লাইসেন্সিং ও মাঠ পর্যায়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণের তাগিদ

advertisement

DharlaPost ডেস্ক:

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও ফসল সুরক্ষায় কীটনাশকের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এর অতিরিক্ত, ভুল সময়ে ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বর্তমানে কৃষি-পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে। শুধু ফসলই নয়, বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রভাবে কৃষক, সাধারণ ভোক্তা, মাটির উর্বরতা, পানি এবং সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যানুযায়ী, কীটনাশকের অপব্যবহার অলক্ষ্য জীবের ক্ষতিসহ মাটি ও পানি দূষণ ত্বরান্বিত করছে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার রোধে সমন্বিত সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি মাটি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মধ্যে শক্তিশালী মেলবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কৃষিতে উদ্বেগের মূল কারণ:

বাংলাদেশে প্রধান সমস্যা কীটনাশক ব্যবহার নয়, বরং প্রাক-প্রস্তুতি ছাড়া এর অতিরিক্ত ও ভুল প্রয়োগ। রোগ বা পোকা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে না পারা, বিক্রেতার বাণিজ্যিক পরামর্শের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, লেবেলে নির্দেশিত অপেক্ষাকাল বা নিরাপত্তা বিধি না মানা এবং দ্রুত ফল পাওয়ার প্রবণতা কৃষকদের ক্ষতির মুখে ফেলছে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে জমির বন্ধুভাবাপন্ন উপকারী পোকা ধ্বংস হচ্ছে।

সংসদীয় নজরদারি ও ২০২৬ সালের নতুন কীটনাশক নীতি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি বর্তমানে কৃষিখাতের নীতি ও কার্যক্রমে সংসদীয় নজরদারি জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ১৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে নতুন কীটনাশক নীতি প্রণয়নের জন্য।

নতুন নীতিতে কীটনাশকের আমদানি, নিবন্ধন, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং মাঠপর্যায়ে নিরাপদ প্রয়োগকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শুধু সনদ প্রদানই নয়—বাজারে কে বিক্রি করছে, ফসল তোলার আগে নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা তাও তদারকি করা হবে।

ডিলার প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল লাইসেন্সিং:

কৃষিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশকের প্রভাবে কৃষকদের মধ্যে ক্যানসারসহ মারাত্মক রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে। এজন্য শুধু কৃষক নয়, কীটনাশক বিক্রেতা ও ডিলারদেরও বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ সনদ ছাড়া নতুন ডিলারশিপ বা নবায়ন বন্ধ করার প্রস্তাব এসেছে।

ইতোমধ্যে বালাইনাশক লাইসেন্সিং ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২০২৬ সালে 'পিআরআইএসএম' (PRISM) প্ল্যাটফর্মে বালাইনাশক লাইসেন্সিং অটোমেশন চালুর মাধ্যমে ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

'নিরাপদ কৃষক' সনদ ও টেক-ব্যাক ব্যবস্থা:

কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রশিক্ষণ শেষে 'নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহারকারী কৃষক' সনদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরপর দুই বছর যারা পরিমিত ও অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করবেন, তাদের 'স্মার্ট কৃষক' বা 'লো-পেস্টিসাইড কৃষক' হিসেবে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত করা হবে।

পাশাপাশি, খালি বোতল ও প্যাকেটের ক্ষতিকর প্রভাব রোধে 'টেক-ব্যাক' বা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় এফএও-র পাইলট প্রকল্পের সফলতার পর খালি প্যাকেট নিরাপদে নিষ্পত্তির উদ্যোগটি জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের জোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষির জন্য কীটনাশককে ঢালাওভাবে শত্রু না ভেবে আইপিএম (সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা) পদ্ধতিকে প্রাধান্য দিয়ে বৈজ্ঞানিক ও পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর