advertisement
advertisement

রংপুর না লালমনিরহাট! বিভাগীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি চিঠি


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
রংপুর না লালমনিরহাট! বিভাগীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি চিঠি

advertisement
রংপুর প্রতিনিধি, ধরলা পোস্ট: রংপুর বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট প্রস্তাবিত সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণ ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অনুমোদিত মূল পরিকল্পনা (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্পটি বিভাগীয় শহর রংপুরে বাস্তবায়নের জোর দাবি উঠলেও তা লালমনিরহাটে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়ে শুরু হয়েছে শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি চিঠি চালাচালি।
​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘৭টি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় রংপুর সদর উপজেলার মন্থনা মৌজায় ১০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতি চলছিল। তবে গত ২৩ জুলাই প্রকল্পের জায়গা রংপুর থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এক আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
​ত্রাণমন্ত্রীর এই ডিও লেটারের পর প্রকল্পটির ডিপিপি সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। তাদের দাবি, রংপুরের প্রস্তাবিত জমিটি তিন ফসলি হওয়ায় স্থানীয় জমির মালিকেরা লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন, ফলে ভূমি অধিগ্রহণে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
​এরই প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটি অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী রংপুরেই বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, রংপুর বিভাগের আটটি জেলার ভৌগোলিক কেন্দ্রবিন্দু হলো রংপুর শহর। বিভাগীয় শহর হওয়ায় এখান থেকে সব জেলার মানুষের যাতায়াত অত্যন্ত সহজ। এটি লালমনিরহাটে সরিয়ে নিলে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারীর রোগীদের চিকিৎসা নিতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হবে, যা চরম ভোগান্তি বাড়াবে।
​একই দিনে রংপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অপর একটি চিঠি পাঠিয়ে লালমনিরহাটে স্থানান্তরের প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তিনিও ভৌগোলিক সুবিধা ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে কেন্দ্রটি রংপুর সদরের নির্ধারিত মন্থনা মৌজাতেই রাখার সুপারিশ করেন।
​দুটি পৃথক ডিও লেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের মধ্যে ব্যাপক চর্চা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর চূড়ান্ত অবস্থান শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন পুরো রংপুর বিভাগের মানুষ।
advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর