advertisement
advertisement

ফুলবাড়ীতে দুর্গাপূজা ঘিরে জমজমাট দেবীর মেলা, মাটির সামগ্রীর দোকানে নজর কাড়ছেন বাবা-মেয়ের দোকানে


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
ফুলবাড়ীতে দুর্গাপূজা ঘিরে জমজমাট দেবীর মেলা, মাটির সামগ্রীর দোকানে নজর কাড়ছেন বাবা-মেয়ের দোকানে

ছবি-ধরলা পোস্ট

advertisement
অনিল চন্দ্র রায়: 
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কেন্দ্রীয় সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রাঙ্গণ কাচারি মাঠে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ‘দেবীর মেলা’। দুর্গাপূজার আনন্দ ও উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে মেলার চারপাশ। 
মিষ্টি, মাটির তৈরি তৈজসপত্র, পূজার সামগ্রী, খেলনাসহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।
মেলায় নানা রঙের ও নকশার পণ্যের ভিড়ে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে মাটির তৈরি সামগ্রীর একটি দোকান। 
সেখানে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, খেলনাসহ বাহারি নকশার বিভিন্ন সামগ্রী সাজিয়ে বসেছেন মৃৎশিল্পী তাপস কুমার পাল। তাঁর পাশে বসে বাবাকে কাজে সহযোগিতা করছে মেয়ে স্মৃতি রানী পাল।
দোকানজুড়ে সাজানো লাল, সবুজ ও নানা রঙের মাটির সামগ্রী দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে শিশুদের কাছে মাটির খেলনা ও পুতুলের আকর্ষণ চোখে পড়ার মতো। অনেকে পছন্দের সামগ্রী কিনছেন, আবার কেউ কেউ দাঁড়িয়ে দেখছেন মৃৎশিল্পীর তৈরি বাহারি নকশার পণ্য।
বাবা তাপস কুমার পালের সঙ্গে মেয়ে স্মৃতি রানীর এভাবে দোকানে বসা যেন পারিবারিক ঐতিহ্য ও প্রজন্মের বন্ধনের এক চেনা ছবি।
 উৎসবের ব্যস্ততার মধ্যেও বাবা-মেয়ের এই উপস্থিতি মেলার দৃশ্যকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
মাটির তৈরি সামগ্রী বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 
আধুনিক নানা পণ্যের ভিড়েও দুর্গাপূজার মতো উৎসবে এসব সামগ্রীর চাহিদা ও আকর্ষণ এখনো রয়েছে। পূজার আনন্দকে আরও রঙিন করে তুলতে দেবীর মেলায় মাটির সামগ্রীর দোকানগুলো হয়ে উঠেছে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।
কাচারি মাঠের এই দেবীর মেলায় শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং স্থানীয় মানুষের মিলন, আনন্দ ও ঐতিহ্যেরও একটি অংশ। আর সেই মেলায় মাটির পণ্যের পসরা সাজিয়ে বাবা তাপস কুমার পাল ও মেয়ে স্মৃতি রানী পাল যেন তুলে ধরছেন বাংলার চিরচেনা মৃৎশিল্পের সৌন্দর্য।
দেবীর মেলায় মাটির তৈরি সামগ্রীর বিক্রেতা তাপস চন্দ্র পাল বলেন, “গতকাল মেলায় দোকান দিয়েছি। গতকাল ও আজ রোববার বেচাকেনা কিছুটা কম হচ্ছে। তবে আগামীকাল থেকে দশমী পর্যন্ত বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা করছি। বিক্রি কম হলেও বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী পেশা ধরে রেখেছি। দুপুর থেকে আমার মেয়েও দোকানে বসে আমাকে সহযোগিতা করছে। রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখি। পরদিন সকালে আবার দোকান খুলে রাত ৯টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলে।
বাবার দোকানে বসে ক্রেতাদের কাছে মাটির তৈরি সামগ্রী বিক্রিতে সহযোগিতা করছিল তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী স্মৃতি রানী পাল। সে বলে, “বাবার দোকানে বসে তাঁকে একটু সহযোগিতা করছি। বাবার সঙ্গে দোকানে বসে বেচাকেনা করতে আমার খুব ভালো লাগছে।”
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, মাটির তৈরী জিনিসপত্র বেদীর মেলা(দুর্গা পূজা)  মনে করিয়ে দেন ছোট বেলার শৈশবের কথা। সত্যি বলতে কি স্মার্ট ও আধুনিক যুগেও বিশেষ বিশেষ মেলায় এখনো  অন্যাণ্য পণ্য সামগ্রীর সাথে মাটির তৈরী জিনিস পত্র ঠিকে আছে। তিনি এই কুমার শিল্পীদের সরকারি সহায়তা দেয়ার দাবী জানিয়েছেন। 

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর