advertisement
advertisement

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে এলেন না কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে ও বোন


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে এলেন না কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে ও বোন

ছবি-সংগৃহীত

advertisement
ধরলা পোস্ট ডেস্ক
আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে দাফন করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত পরিবারের নারী সদস্যরাই কবর খুঁড়ে তাঁর দাফন সম্পন্ন করেন। 
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তাঁকে দাফন করা হয়। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল পুলিশ।
এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থানকালে মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে সেখানে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে পড়েন স্বজনেরা। পরিস্থিতির কারণে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সেখান থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়।
বিকেল ৫টার দিকে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর সদর থানা পুলিশ মরদেহ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করে।
রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের নারী সদস্যরা মিলে কবর খনন করেন। রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত থাকলেও পরিবারের দাবি, কোনো পুরুষ সদস্য এগিয়ে আসেননি।
মানিক পশারীর বোন বলেন, “আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।
এদিকে, মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, জেলা জামায়াত বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের নেতা দাফনে বাধা দেননি। জামায়াতে ইসলামী লাশের রাজনীতি করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, সদর থানা পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারীর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি যশোর ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর মরদেহ দাফন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং পরিবারের নারী সদস্যদের কবর খুঁড়ে দাফন সম্পন্ন করার ঘটনা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সুত্র-ঢাকা প্রকাশ
advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর