advertisement
advertisement

মানুষের ভালোবাসায় অমর ডা. সুবল চন্দ্র রায়, বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে অশ্রুসিক্ত তিন ছেলে


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৬:২১ পূর্বাহ্ণ
মানুষের ভালোবাসায় অমর ডা. সুবল চন্দ্র রায়, বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে অশ্রুসিক্ত তিন ছেলে

ছবি-ধরলা পোস্ট

advertisement
অনিল চন্দ্র রায় : 
দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেছিলেন ডা. সুবল চন্দ্র রায়। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি আন্তরিকতা, মানবিকতা ও পারিবারিক দায়িত্ববোধের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অসংখ্য মানুষের আপনজন। তাঁর মৃত্যুর ১১ দিন পরও পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের আবহ কাটেনি। 
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ঘিরে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। বাবার ছবি বুকে জড়িয়ে তিন ছেলের বাঁধভাঙা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে উপস্থিত সবার মন।
শুক্রবার নিজ বাসভবনে ডা. সুবল চন্দ্র রায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। শেষ বিকালে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান শেষে অনুষ্ঠিত হয় মহানাম। এতে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর বেদনায় অনেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাবার ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর তিন ছেলে। তাঁদের কান্নায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত স্বজনরাও।
শুধু চিকিৎসক হিসেবেই নয়, একজন দায়িত্বশীল বাবা ও মানবিক মানুষ হিসেবেও এলাকায় বিশেষ পরিচিতি ছিল ডা. সুবল চন্দ্র রায়ের। নিজের উপার্জিত অর্থ ও সম্পদ দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজখবর রাখতেন তিনি। তাঁর পারিবারিক দায়িত্ববোধের বিষয়টি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে আসা মানুষের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে।
বাবাকে হারানোর বেদনা নিয়ে তিন ছেলে রণজিৎ রায়, সত্যজিৎ রায় ও সনজিত চন্দ্র রায় বলেন, “বাবা শুধু আমাদের জন্মদাতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা, অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক। ছোটবেলা থেকে আমাদের মানুষ করতে তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য সবকিছু করেছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন, মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন। শুধু নিজের সন্তানদের নয়, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য মানুষের জন্যও তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ।”
তাঁরা আরও বলেন, “বাবার স্নেহ, শাসন, ভালোবাসা ও পরামর্শ ছাড়া আমাদের জীবন কল্পনা করাও কঠিন। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে থাকবে। বাবার রেখে যাওয়া আদর্শ ও মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ধরে রাখাই আমাদের দায়িত্ব। সবাই আমাদের বাবার জন্য আশীর্বাদ ও প্রার্থনা করবেন, যেন তিনি পরপারে শান্তিতে থাকেন।
ডা. সুবল চন্দ্র রায়ের বিয়াই নিশিকান্ত বর্মন বলেন, “মানুষের জন্য তাঁর অবদান অনেক। হাজারো রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি নিজের পরিবারের প্রতিও তিনি ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল। জীবদ্দশায় তিন ছেলের জন্য তিনটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন এবং তাঁদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করেছেন। দুই ছেলেকে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলেছেন। দুই মেয়ে ও তিন ছেলের প্রতি দায়িত্ব পালনে তাঁর কোনো কমতি ছিল না। পৃথিবীতে এমন দায়িত্বশীল বাবা কয়জন আছেন! আত্মীয়-স্বজনদেরও নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন। সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন একজন বিরল মানুষ। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।

প্রতিবেশী অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার বলেন, “এমন মানুষ লাখে একজন পাওয়া যায়। তিনি নিজের সবটুকু দিয়ে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন এবং তিন ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বাড়ি-গাড়িসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করেছেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ভাবনার কোনো কমতি ছিল না। এমনকি মৃত্যুর পর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্যও নগদ দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা রেখে গেছেন। তাঁর গুণাবলি বলে শেষ করা যাবে না। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও তাঁর ব্যাপক অবদান ছিল। সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন অসাধারণ একজন মানুষ। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি, তিনি যেন স্বর্গবাসী হন।
দীর্ঘ ৪৫ বছরের চিকিৎসাসেবায় অসংখ্য মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ডা. সুবল চন্দ্র রায় অর্জন করেছিলেন মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করা, পারিবারিক দায়িত্ব পালন এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান তাঁকে এলাকায় স্মরণীয় করে রেখেছে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাঁর কর্ম, মানবিকতা ও ভালোবাসার স্মৃতি বেঁচে থাকবে স্বজন ও অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে।
advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর