গোসল করে আসায় ধর্ষণের মামলা নেয়নি ওসি, ভুক্তভোগীর অভিযোগ
ধরলা পোস্ট |
প্রতিবেদক:
DharlaPost
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
ছবি সংগৃহীত
ধরলা পোস্ট ডেস্ক:
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বিয়ের মাত্র ১৬-১৭ দিনের মাথায় ১৭ বছর বয়সী এক নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর সৎভাই ও এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় বিচার চাইতে গেলে মামলা না নেওয়া এবং উল্টো ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেনের বিরুদ্ধে।
গত ১৯ অক্টোবর রাতে উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী ও স্থানীয় সূত্র। অভিযুক্তরা হলেন মো. ইমরান প্যাদা (৩৮) ও রাকিব প্যাদা (২৬)। ইমরান ভুক্তভোগীর স্বামীর সৎভাই এবং রাকিব তাঁর চাচাশ্বশুর বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে ইমরান তাঁকে বাজারে নিয়ে যান। রাতে বাড়ি ফেরার পথে ইমরান ও রাকিব তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় বিচার চেয়ে গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী। পরে লিগ্যাল এইড অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় যান তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, থানায় ওসি আদিল হোসেনের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তিনি মামলা গ্রহণ করেননি। বরং ধর্ষণের কোনো প্রমাণ নেই এবং গোসল করার কারণে আলামত নষ্ট হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তাঁর সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি আদিল হোসেন। তাঁর ভাষ্য, দু-এক দিন আগে ওই নারী স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও কিছুক্ষণ পর জানাবেন বলে তাঁরা থানা থেকে চলে যান।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইমরান ও রাকিব পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের বক্তব্য জানতে বাড়িতে গিয়েও পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীর স্বামী জীবন প্যাদা, শ্বশুর সুলতান প্যাদা ও শাশুড়ি ফাতেমা বেগম অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাসুদ হাসান বলেন, বিচার চাইতে থানায় গিয়ে কোনো নারী যদি সুরক্ষার পরিবর্তে ভয়ভীতির শিকার হন, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ওসি মামলা না নিয়ে থাকলে কিংবা ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।