advertisement
advertisement

বাবার মৃত্যুর পর বন্ধ হতে বসেছিল পড়াশোনা, সেই আরাফাতই মির্জাগঞ্জের একমাত্র জিপিএ-৫


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
বাবার মৃত্যুর পর বন্ধ হতে বসেছিল পড়াশোনা, সেই আরাফাতই মির্জাগঞ্জের একমাত্র জিপিএ-৫

ছবি সংগৃহীত

advertisement
ধরলা পোস্ট ডেস্ক:

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৮৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছেন মো. আরাফাত খান। বাবাকে হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়া এই শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে রয়েছে বড় বোনের ত্যাগ ও নিজের অদম্য অধ্যবসায়।

আরাফাত উপজেলার বাজিতা চতুর্থ খণ্ড গ্রামের প্রয়াত মো. ইসমাইল খানের ছেলে। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর তার বাবা মারা যান। এরপর পাঁচ সদস্যের পরিবারে নেমে আসে আর্থিক সংকট। একপর্যায়ে পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন আরাফাত।

কিন্তু বড় বোন মোসা. রুবি আক্তার তার পাশে দাঁড়ান। পরিবারের খরচ চালাতে পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম করে সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ছোট ভাইয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

বোনের সহযোগিতা ও নিজের অধ্যবসায়ের ফলে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন আরাফাত। তিনি আখতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী। তার এই অর্জনে আনন্দিত পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীরা।

আরাফাত জানান, বাবাকে হারানোর পর তার জীবনে অনিশ্চয়তা নেমে এসেছিল। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। তবে বড় বোনের সাহস ও সহযোগিতা তাকে আবার পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনে। বোনের আত্মত্যাগের কথা তিনি কখনো ভুলবেন না বলেও জানান।

আরাফাতের স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। ভবিষ্যতে শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। তবে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা তার উচ্চশিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এ কারণে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, ছোট ভাইয়ের সাফল্যে আনন্দিত বড় বোন রুবি আক্তার। তিনি জানান, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের পাঁচ সদস্যের দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। সংসারের খরচ চালাতে পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। নিজের কষ্টের মধ্যেও ভাইয়ের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি।

রুবি আক্তারের ত্যাগ ও আরাফাতের অধ্যবসায় আজ তাদের পরিবারে আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছে। মির্জাগঞ্জের একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনকারী এই শিক্ষার্থীর সামনে এখন নতুন লক্ষ্য—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করা এবং একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে গড়ে ওঠা।
advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর