advertisement
advertisement

স্কুলে নামাজ বাধ্যতামূলক করতে গিয়ে বিপদে বাগেরহাটের হিন্দু শিক্ষক


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
স্কুলে নামাজ বাধ্যতামূলক করতে গিয়ে বিপদে বাগেরহাটের হিন্দু শিক্ষক

স্কুলে নামাজ বাধ্যতামূলক করতে গিয়ে বিপদে বাগেরহাটের হিন্দু শিক্ষক

advertisement

বাগেরহাট প্রতিনিধি, ধরলা পোস্ট: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার শিরিন হক পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমর কৃষ্ণ রায়ের একটি বক্তব্যের মাত্র ৬ সেকেন্ডের খণ্ডিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে এলাকা ও অনলাইনে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া ভুলকে কেন্দ্র করে অপপ্রচারের প্রতিবাদে এবং ঘটনার সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবিতে রোববার (১১ অক্টোবর) বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঈদে মিলাদুন্নবীর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক সমর কৃষ্ণ রায় মুসলিম ছাত্রীদের নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় ‘নামাজ না পড়লে পরীক্ষায় ১০ নম্বর কেটে নেওয়া হবে’ কথাটি বলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ‘না’ শব্দটি বাদ পড়ে যায়। পরবর্তীতে কিছু ব্যক্তি পুরো বক্তব্যের মূল সুর ও উদ্দেশ্য উপেক্ষা করে ওই খণ্ডাংশটুকু ভাইরাল করে বিভ্রান্তি তৈরি করে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সমর কৃষ্ণ রায় বলেন, ‘আমি হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও মুসলিম ছাত্রীদের নামাজের জন্য আলাদা কক্ষ এবং ২২ হাজার টাকার জায়নামাজের ব্যবস্থা করেছি। বক্তব্য দিতে গিয়ে ভুলবশত ‘না’ শব্দটি বাদ পড়েছিল। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং ক্ষমা প্রার্থী। কাউকে বা কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া আমার উদ্দেশ্য ছিল না।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিম, আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী ও সহকারী প্রধান শিক্ষিকা শারমিন খাতুন জানান, প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকেই ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখেছেন এবং মুসলিম ছাত্রীদের জন্য নামাজের আলাদা জায়গা ও সুবিধার ব্যবস্থা করেছেন। এমনকি ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানের জন্য বিদ্যালয়ের পুরোনো খাতা ও গাইড বই রেজুলেশন করে বিক্রি করা ১০ হাজার ৫০০ টাকাসহ অন্যান্য তহবিল থেকে মোট ৪৬ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয় করে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার্থী নীলা, তাবাসসুম ও আয়েশা তাহাসিন পুথি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, স্যার তাদের নিয়মিত নামাজ পড়ার উৎসাহ দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো বক্তব্য প্রচার না করে খণ্ডিত অংশ দিয়ে স্যারের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তারা সংবাদমাধ্যমে সঠিক তথ্য ও তদন্তের দাবি জানায়।

এ বিষয়ে ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ জামান বলেন, ‘পুরো বক্তব্যটি পর্যালোচনায় মনে হয়েছে প্রধান শিক্ষক অসাবধানতাবশত কথাটি বলে ফেলেছেন এবং পরবর্তীতে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। সমাজের দর্পণ হিসেবে সাংবাদিকদের সত্য ও সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর