কুড়িগ্রামে দুর্যোগ প্রশমন দিবসে ইএসডিওর নানা কর্মসূচি পালন
ধরলা পোস্ট |
প্রতিবেদক:
DharlaPost
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
ছবি-সংগৃহীত
ধরলা পোস্ট প্রতিবেদক :
‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে পারিবারিক দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়ন, নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও বৃক্ষরোপণসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে হেলভেটাস ও ইএসডিওর অ্যাকসেস প্রকল্প। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী ও উলিপুর উপজেলার ১৫ হাজার পরিবারের জন্য পারিবারিক দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৮০টি পরিবারের বাড়িতে গিয়ে এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার ১৫ হাজার পরিবারের দৃশ্যমান স্থানে প্রস্তুতি পরিকল্পনার বোর্ড থাকবে। পরিবারের সদস্যরা এ পরিকল্পনা অনুসরণ করে দুর্যোগকালীন করণীয় সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সক্ষম হবেন।
এ ছাড়া দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০টি গ্রামে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দেলদারগঞ্জ ও মেডিকেল বাজার এলাকায় ফলজ, বনজসহ বিভিন্ন প্রজাতির তিন শতাধিক গাছের চারা রোপণ করা হয়। এসব কর্মসূচিতে উপজেলা জলবায়ু পরিষদের সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিব এবং ইএসডিওর অ্যাকসেস প্রকল্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রকল্পের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। জেলা প্রশাসনের শোভাযাত্রায় অ্যাকসেস প্রকল্পের পক্ষ থেকে তৈরি করা প্ল্যাকার্ড ও বক্সের মাধ্যমে পারিবারিক দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
পারিবারিক দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকল্পের ব্যবস্থাপক গোলাম ফারুক বলেন, “দুর্যোগের সময় পরিবারের সদস্যরা কোথায় আশ্রয় নেবেন, কার সঙ্গে এবং কীভাবে যোগাযোগ করবেন, কী ধরনের আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে, জরুরি পরিবহনের ব্যবস্থা কী হবে, কার কী দায়িত্ব থাকবে এবং জরুরি ফোন নম্বর কী—এসব বিষয় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে দুর্যোগের সময় এ পরিকল্পনা অনুসরণ করে পরিবারগুলো সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারবে।
ভাযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম বেনজীর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. কুদরত-এ-খুদা।
সভায় দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন ইএসডিওর অ্যাকসেস প্রকল্পের ব্যবস্থাপক গোলাম ফারুকসহ ব্র্যাক, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, আফাদ, ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।