advertisement
advertisement

দুর্গম চরের শিশুদের শিক্ষা উপকরণ দিল চর উন্নয়ন পরিষদ: ঝরে পড়া ও বাল্যবিয়ে রোধে চরে ভাসমান স্কুল ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ
দুর্গম চরের শিশুদের শিক্ষা উপকরণ দিল চর উন্নয়ন পরিষদ: ঝরে পড়া ও বাল্যবিয়ে রোধে চরে ভাসমান স্কুল ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি

advertisement
শফিকুল ইসলাম বেবু, কুড়িগ্রাম | ১৬ অক্টোবর ২০২৬
দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত দুর্গম দ্বীপচর রাউলিয়া। চারদিকে পানি আর বালুচর পেরিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসে শিশুরা। দারিদ্র্য ও প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এসব শিশুর মুখে বৃহস্পতিবার ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন স্কুল ব্যাগ, খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ।
জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, কুড়িগ্রামের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের চর রাউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে এসব শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, কুড়িগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, কুড়িগ্রামে দারিদ্র্যের হার বর্তমানে ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ। এ হার কমাতে হলে জেলার প্রায় ৮৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত চার শতাধিক চরের সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হবে। চরাঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন ছাড়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, কুড়িগ্রামে ১ হাজার ২৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে নদীতীরবর্তী, চর ও দ্বীপচরে রয়েছে ১৬৯টি। কিন্তু নদীভাঙনের কারণে চরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়ছে। সম্প্রতি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের খেওয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে চরাঞ্চলে দ্রুত ভাসমান স্কুল প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
চরাঞ্চলে মাধ্যমিক শিক্ষার সংকট তুলে ধরে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, চরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর অনেক মেয়ের বাল্যবিয়ে হয়ে যায়। অন্যদিকে অনেক ছেলে পরিবারের অভাব ঘোচাতে উপার্জনের পথে নামতে বাধ্য হয়। এ সমস্যা সমাধানে চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। এ জন্য দ্রুত ‘চরবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন রিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আখের, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. নওশাদ এবং ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক রফিউল হক, ক্রীড়া সংগঠক শাহনুর আশরাফ জুয়েল, ঘোগাদহ ইউনিয়ন চর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আব্দুল জলিল ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর