‘সারের ডিলারশিপ না দেন, বিষের ডিলারশিপ দেন’: সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজারহাটের ছাত্রদল নেতার বার্তা ভাইরাল
ধরলা পোস্ট |
প্রতিবেদক:
DharlaPost
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
‘সারের ডিলারশিপ না দেন, বিষের ডিলারশিপ দেন’: সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজারহাটের ছাত্রদল নেতার বার্তা ভাইরাল
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি, ধরলা পোস্ট: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সারের ডিলারশিপের জন্য সুপারিশে নাম থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তা না পাওয়ার চরম ক্ষোভে ও হতাশায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্পর্শকাতর বার্তা পোস্ট করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান ফেরদৌস সজীব তাঁর ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখেন— “সারের ডিলারশিপ না দেন, বিষের ডিলারশিপ দেন—ত্যাগী কর্মীরা মরে যাক।” প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে লেখা তাঁর এই স্ট্যাটাসটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয় এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন তোলপাড় শুরু হয়।
রায়হান ফেরদৌস সজীব ‘রায়হান ট্রেডার্স’-এর মালিক। তাঁর দাবি, উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য সরকারি সুপারিশ তালিকায় তাঁর নাম দ্বিতীয় স্থানে ছিল। কিন্তু দলীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সুপারিশ উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ডিলারশিপ তুলে দেওয়া হয় ‘মেসার্স বিদ্যানন্দ ট্রেডার্স’-এর মালিক মোস্তফা জামালের হাতে।
ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতা সজীব অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত আছি, জুলাই আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে লড়াই করেছি। নানা হামলা-মামলা ও শারীরিক অসুস্থতা সামলে দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে রাজপথে থেকেছি। অথচ আমাকে বঞ্চিত করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকা পরিবারকে সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। একজন জুলাই যোদ্ধা ও বিএনপির সক্রিয় কর্মী হয়েও যদি আওয়ামী অনুসারীরা সুবিধা পায়, তবে এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না।”
তবে নিজের ও পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নতুন ডিলারশিপ পাওয়া মেসার্স বিদ্যানন্দ ট্রেডার্সের মালিক মোস্তফা জামাল। তিনি জানান, তারা কোনো দিন আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না এবং ডিলারশিপের নিয়ম মেনেই তারা এটি পরিচালনা করছেন।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে গুঞ্জন রয়েছে, ডিলারশিপ মোস্তফা জামালের নামে হলেও নেপথ্যে ব্যবসাটি পরিচালনা করছেন বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন উর রশীদ। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে হারুন উর রশীদ জানান, ডিলারশিপের সকল আইনি কাগজপত্র মোস্তফা জামালের নামে এবং তিনি নিজেই এর একক স্বত্বাধিকারী।
ডিলার নিয়োগের বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় জানান, সরেজমিনে তদন্ত ও সার্বিক বিষয় যাচাই-বাছাই করেই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল। ডিলার নিয়োগ কমিটিতে একাধিক সদস্যের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত সুপারিশের ভিত্তিতে যাকে সবচেয়ে উপযুক্ত ও যোগ্য মনে হয়েছে, তাকেই নিয়মানুযায়ী ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।