advertisement
advertisement

সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণ করলেন তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থী


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণ করলেন তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থী

সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণ করলেন তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থী

advertisement

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি, ধরলা পোস্ট: সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার আঞ্চলিক চরমপন্থী সংগঠনের ১৯৬৫ জন সক্রিয় সদস্য অন্ধকারের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে পাবনার ৪৫ জন, রাজবাড়ীর ১৩ জন এবং সিরাজগঞ্জের ৭ জন সদস্য রয়েছেন।

এসআরবি-১২-এর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই বিশেষ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান ও সভাপতিত্ব করেন এসআরবি ফোর্স-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান মিয়া। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান আলিম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) ও যুগ্ম সচিব শাহানা আখতার জাহান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন আত্মসমর্পণকারীদের সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “যারা ভুল পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন, তাদের প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও সমস্যা সমাধানে সরকার তাদের পাশে থাকবে।”

তিনি এসআরবি ফোর্সের সদস্যদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও ঘোষণা দেন যে, সমাজবিচ্ছিন্ন ও অপরাধের জগতে থাকা ব্যক্তিদের স্থায়ীভাবে আলোর পথে ফেরাতে একটি বিশেষ সমন্বিত প্রকল্প চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গে গত ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লুট হওয়া অস্ত্রের বিষয়েও নিবিড় খোঁজখবর নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আত্মসমর্পণকালে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে পাবনার আত্মসমর্পণকারী মো. মাজেদ আলী মুন্সী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “অন্ধকারের পথ ছেড়ে অবশেষে আলোর পথে আসতে পেরে আজ সত্যিই খুব ভালো লাগছে।”

আরেক আত্মসমর্পণকারী পাবনার বাবু মিয়া ওরফে আইনুল হোসেন তাঁর ভুল পথের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ভুল পথে পা বাড়িয়ে জীবনের মূল্যবান ১৫টি বছর হারিয়ে ফেলেছি। স্বজনদের ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হতো, সঙ্গীরা বলত কতদিন ধরে বাড়ি যাওয়া হয় না।” আলমগীর নামের অপর এক আত্মসমর্পণকারী জানান, দুর্গম এলাকায় ঘুরে বেড়ানো ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী না পাওয়ার সুযোগ নিয়ে অনেকেই অতীতে দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার সীমান্ত ও চরাঞ্চলে একসময় চরমপন্থী সংগঠনগুলোর আধিপত্য ও সশস্ত্র তৎপরতা ছিল। তাদের হাতে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও একাধিক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটত। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং ইতিপূর্বে বিভিন্ন দফায় একাধিক চরমপন্থী গ্রুপের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে দীর্ঘদিনের অপরাধের মাত্রা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর