দিনমজুরি ও হোটেলে কাজ করেও জিপিএ-৫ পেলেন কুড়িগ্রামের কৌশিক
ধরলা পোস্ট |
প্রতিবেদক:
DharlaPost
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
ছবি সংগৃহীত
ধরলা পোস্ট:
কুড়িগ্রামের ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান বিশাল সরকার কৌশিক। সংসারের অভাব মেটাতে দিনমজুরি, হোটেলে কাজ ও টিউশনি করেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সব বিষয়ে এ প্লাসসহ জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন কৌশিক।
কৌশিক কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। এর আগে কাঁঠালবাড়ী বিদ্যাকানন থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পান তিনি। পরে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে এসএসসিতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
কৌশিকের স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে বড় বাধা পরিবারের চরম আর্থিক সংকট ও ঋণের বোঝা। পরিবারের সাপ্তাহিক ঋণের কিস্তি ২ হাজার ৩০০ টাকা। সামান্য আয়ে সংসার চালানো এবং ঋণ পরিশোধ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী বাজারের পাশে অন্যের জমিতে তিনটি জরাজীর্ণ চালাঘরে বসবাস করে কৌশিকের পরিবার। তাঁর মা কণা রানী একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে আয়ার কাজ করেন। অসুস্থ বাবা সুকুমার সরকার সপ্তাহে দুই দিন হাটবারে ছোট একটি চায়ের দোকান চালান।
সংসারের অভাব ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে মা বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছেন। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৮০ হাজার টাকা এবং আশা থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়ার পর কিস্তি পরিশোধে আরও ৫০ হাজার টাকা ধার করতে হয়েছে পরিবারটিকে।
কৌশিক জানান, স্কুলজীবনের শুরুতে বন্ধুর দেওয়া পুরোনো প্যান্ট ও জুতা ব্যবহার করেছেন তিনি। নবম শ্রেণি পর্যন্ত অর্থের অভাবে প্রাইভেট পড়তে পারেননি। পরে কয়েকজন শিক্ষক বিনা মূল্যে তাঁকে পড়িয়েছেন। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও শিক্ষক ও অন্যদের সহযোগিতা পেয়েছেন।
তিনি আরও জানান, অনেক দিন অটোরিকশার ভাড়া না থাকায় স্কুল-কলেজে যেতে পারেননি। কখনো সারাদিন না খেয়েও থাকতে হয়েছে। পড়াশোনার খরচ জোগাতে হোটেলে কাজ করেছেন। তবু চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি।
কৌশিকের বাবা সুকুমার সরকার জানান, ২০২০ সালে সরকারি খাসজমি থেকে উচ্ছেদের সময় তাঁদের সড়কের পাশের চায়ের দোকানটিও চলে যায়। এরপর থেকে প্রতিবেশীর সুপারি বাগান ও বাঁশঝাড়ের পাশে আশ্রয় নিয়ে আছেন তাঁরা। বড় ছেলে কর্ণ সরকার কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে অনার্সে পড়ছেন। মেয়ে সূচনা এসএসসি পাসের পর বিয়ে করেছেন।
কৌশিকের বড় ভাই কর্ণ সরকার বলেন, ছোট ভাইয়ের ভালো ফলাফলে তাঁরা আনন্দিত হলেও তার ভবিষ্যৎ পড়াশোনার খরচ কীভাবে জোগাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
কৌশিকের মা কণা রানী ছেলের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সরকার ও সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।