advertisement
advertisement

কুড়িগ্রামে গ্রামীণ খেলাধুলার উৎসব, হাঁস ধরা থেকে কলাগাছে ওঠার প্রতিযোগিতায় মাতলেন সব বয়সী মানুষ


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামে গ্রামীণ খেলাধুলার উৎসব, হাঁস ধরা থেকে কলাগাছে ওঠার প্রতিযোগিতায় মাতলেন সব বয়সী মানুষ

ছবি সংগৃহীত

advertisement
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ও ধরলা পোস্ট : 
কোথাও চোখ বেঁধে হাঁস ধরার প্রতিযোগিতা, কোথাও তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠার প্রাণপণ চেষ্টা। আবার পানিতে বালিশ যুদ্ধ, হাড়িভাঙা কিংবা মারবেল দৌড়। চারদিকে দর্শকদের করতালি, হাসি আর আনন্দ-উল্লাস। এমনই এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলায় মেতে উঠলেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী নারী-পুরুষ। ক্ষণিকের জন্য ভুলে গেলেন নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা, ফিরে পেলেন শৈশবের সেই আনন্দমাখা স্মৃতি।
রবিবার (৮ নভেম্বর) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ডাক্তারপাড়া গ্রামে দিনব্যাপী এ গ্রামীণ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুর্বার তারুণ্য বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং এসওএস পরিবার শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি, কুড়িগ্রামের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের সমাগম ঘটে।
আয়োজনজুড়ে ছিল চোখ বেঁধে হাঁস ধরা, তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠা, পানিতে বালিশ যুদ্ধ, হাড়িভাঙা, সাঁতার, বিস্কুট দৌড়, মারবেল দৌড় ও যেমন খুশি তেমন সাজোসহ গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা নানা ঐতিহ্যবাহী খেলা। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বড়রাও মেতে ওঠেন আনন্দে। খেলাগুলো ঘিরে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও করতালিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুর রহমান নয়ন, রাশেদুজ্জামান বাবু, সিনিয়র সাংবাদিক ইউনুছ আলী, এসওএস পরিবার শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি কুড়িগ্রামের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মকলেছুর রহমান, ইউপি সদস্য আবুল হোসেন এবং দুর্বার তারুণ্য বাংলাদেশ কুড়িগ্রামের সভাপতি রেজওয়ানুল হক নুরনবীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, মাদক, জুয়া, মোবাইল আসক্তি ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটানো জরুরি। গ্রামীণ খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন প্রজন্মের কাছে এসব খেলার পরিচয় তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
আয়োজকরা জানান, গত পাঁচ বছর ধরে ডাক্তারপাড়া গ্রামে এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন করে আসছেন তাঁরা। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ খেলাধুলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করা এবং সমাজের সব বয়সী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়ানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর