advertisement
advertisement

প্রদীপের আলোয় আলোকিত মন্দির-প্রাঙ্গণ, মা শ্যামার আরাধনায় মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
প্রদীপের আলোয় আলোকিত মন্দির-প্রাঙ্গণ, মা শ্যামার আরাধনায় মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা

advertisement
অনিল চন্দ্র রায় : 
অমাবস্যার অন্ধকারে প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে মন্দির ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়ি। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি আর উৎসবের আমেজে আজ সারা দেশের মতো কুড়িগ্রামেও উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা ও দীপাবলি।
কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দেবী শ্যামার আরাধনায় মেতে উঠেছেন ভক্তরা। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে জ্বলে ওঠে সারি সারি প্রদীপ। অন্ধকার দূর করে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতীকী বার্তা নিয়ে দীপাবলির এই আয়োজন পরিণত হয় এক আনন্দঘন উৎসবে। তিথি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয় দীপাবলির আনুষ্ঠানিকতা। এতে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেন।
এ সময় অনেকে প্রয়াত পিতা-মাতা, পিতৃপুরুষ ও স্বজনদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বালন করেন। প্রিয়জনদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি প্রদীপের আলোয় সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তাঁরা।
ভক্তদের কাছে এ উৎসব কেবল পূজা-অর্চনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার এক অনন্য উপলক্ষ। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার পাশাপাশি তাঁদের প্রার্থনা—সমাজ থেকে দূর হোক হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি ও অশান্তি। সবার জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও পুরাণ অনুসারে, অসুরদের অত্যাচারে দেবতা ও মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠলে অশুভ শক্তির বিনাশে দেবী দুর্গার কপাল থেকে আবির্ভূত হন মহাশক্তি মা কালী। অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সাহস ও শক্তির প্রতীক হিসেবেই পূজিত হন দেবী শ্যামা।
এদিকে তিথি অনুযায়ী রাত ১২টায় মন্ত্রোচ্চারণ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে শ্যামাপূজার মূল পর্ব। পূজা শেষে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করবেন। পরে প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা।প্রদীপের আলোকশিখায় অন্ধকার দূর হওয়ার প্রত্যাশার পাশাপাশি মা শ্যামার আশীর্বাদে পৃথিবীজুড়ে শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হোক এমন প্রার্থনাই ভক্তদের।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কার্তিক চন্দ্র সরকার ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুনীল চন্দ্র রায় এবং সাধারণ সম্পাদক অনীল চন্দ্র রায় বলেন, শ্যামাপূজা ও দীপাবলি অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভশক্তির বিজয়ের বার্তা বহন করে। প্রদীপের আলো যেমন অন্ধকার দূর করে, তেমনি মানুষের মন থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অসহিষ্ণুতা দূর করে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, এই চেতনায় সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে হবে। তারা দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিছেন।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর