advertisement
advertisement

দুই হাত অচল, তবুও থামেনি স্বপ্নের পথচলা, জিপিএ-৫ পেয়ে বিসিএস ক্যাডার হতে চান খুশবু


ধরলা পোস্ট | প্রতিবেদক: DharlaPost প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
দুই হাত অচল, তবুও থামেনি স্বপ্নের পথচলা, জিপিএ-৫ পেয়ে বিসিএস ক্যাডার হতে চান খুশবু

ছবি-ধরলা পোস্ট

advertisement
ধরলা পোস্ট অনলাইন ডেস্ক : 
দুই হাতের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়েও দমে যাননি খুশবু আক্তার। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, পারিবারিক অসচ্ছলতা ও নানা প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্য শুধু পরিবারের মুখেই হাসি ফোটায়নি, গর্বিত করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও। এখন তাঁর স্বপ্ন ইংরেজি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়া।
খুশবু আক্তার ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার বগা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মহেশপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী। এসএসসি পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর দুই হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর স্বাভাবিকভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়াটা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রতিকূলতার কাছে হার মানেননি তিনি। অদম্য মনোবল, অধ্যবসায় ও পরিবারের সহযোগিতায় চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা। সেই প্রচেষ্টার স্বীকৃতি মিলেছে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্য দিয়ে।
স্বল্প আয়ের পরিবারের সন্তান খুশবুর এই অর্জন যেন হার না মানা এক সংগ্রামের গল্প। আর্থিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর স্বপ্ন অনেক বড়। ইংরেজি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিতে চান তিনি। দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য।

এদিকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় মহেশপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে ১১২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭৪ জন। পাসের হার ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ। এ বছর কলেজটি থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের একজন এবং মানবিক বিভাগের চারজন।
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন—হুমায়রা মেহজাবিন সামি, খুশবু আক্তার, সাইমাতুস সাদিয়া, উম্মে নায়িমা ও ফারাহ সুফিয়া সেমন্তী।
কলেজ কর্তৃপক্ষের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, মানবিক বিভাগে ৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪২ জন। বিএমটি শাখায় ৩৬ জনের মধ্যে ৩০ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে তিনজনের মধ্যে দুজন পাস করেছেন। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিএমটি শাখায় পাসের হার সবচেয়ে বেশি। তবে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে মানবিক বিভাগ।
কলেজের অধ্যাপক মমিনুল হক বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে মূলত নিম্ন ও স্বল্প আয়ের পরিবারের মেয়েরা পড়াশোনা করে। এসএসসিতে ভালো ফল করা অনেক শিক্ষার্থী অন্য কলেজে ভর্তি হওয়ায় নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই তাঁদের পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হয়। এরপরও এ বছর পাঁচজন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। বিশেষ করে কৃতী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের পরিবারের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল নয়। কলেজের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে। তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং কলেজের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

শারীরিক সীমাবদ্ধতা কিংবা আর্থিক অসচ্ছলতা যে স্বপ্নপূরণের পথে চূড়ান্ত বাধা নয়, খুশবু আক্তারের সাফল্য তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এই অর্জন প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যেতে চাওয়া অসংখ্য শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর