গোধূলির রঙে ধরলার অপরূপ সৌন্দর্য, মুগ্ধ পথচারী ও স্থানীয়রা
ধরলা পোস্ট |
প্রতিবেদক:
DharlaPost
প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
ছবি-ধরলা পোস্ট
অনিল চন্দ্র রায় :
দিনের আলো যখন ধীরে ধীরে নিভে আসে, ঠিক তখনেই পশ্চিম আকাশে সূর্য ছড়িয়ে দেয় লালচে আভা। সেই আভায় নদীর বুকে তৈরি হয় মায়াবী আলোর প্রতিচ্ছবি।
এক পাশে ধরলা নদী ও বিস্তীর্ণ চর, অন্য পাশে সবুজ ফসলের মাঠ। মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা সেতু আর প্রকৃতির বুকে ফুটে থাকা বুনো ফুল, সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ধরলা নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রতিদিনের এমন গোধূলিলগ্নের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগমুহূর্তে প্রকৃতি যেন সাজে নতুন রূপে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পশ্চিম আকাশে অস্তগামী সূর্যের লালচে আলো নদীর পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে। নদীর বিস্তীর্ণ বালুচর, সবুজ ফসলের মাঠ, নদীর ওপরের সেতু এবং আশপাশের গাছপালা মিলেমিশে তৈরি করেছে অপূর্ব এক প্রাকৃতিক পরিবেশ। সেতুর পাশে ফুটে থাকা ছোট ছোট বুনো ফুল সৌন্দর্যে যোগ করেছে এক ভিন্ন মাত্রা।
অন্যান্য সময়ের তুলনায় গোধূলিলগ্নে ধরলার এই দৃশ্য আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। সূর্যাস্তের রঙিন আকাশ আর নদীর শান্ত পরিবেশ উপভোগ করতে গিয়ে অনেক পথচারী কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়ান। স্থানীয়দের কাছেও প্রকৃতির এই রূপ বেশ উপভোগ্য।
নদী, চর, সেতু ও সবুজ ফসলের মাঠের এমন সমন্বয় শুধু চোখ জুড়ায় না, গ্রামীণ জনপদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেও নতুন করে তুলে ধরে। ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতির এমন মুহূর্ত যেন মানুষকে কিছুক্ষণের জন্য নিয়ে যায় প্রশান্তির জগতে।
শিমুলবাড়ীর ধরলা পাড়ের এই অপরূপ দৃশ্য আবারও মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে সব সময় দূর-দূরান্তে ছুটতে হয় না; কখনো কখনো নিজের এলাকার পরিচিত নদী আর সবুজ মাঠেই লুকিয়ে থাকে মুগ্ধতার অনন্য গল্প।
ধরলা পাড়ে ঘুরতে আসা হাবিবুর রহমান হাবিব ও অসিম কুমার রায় জানান, তাঁরা প্রায়ই ধরলা নদীর পাড়ে ঘুরতে আসেন। তবে প্রতিবারই গোধূলি লগ্নে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য তাঁদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া লালচে আভা এবং নদীপাড়ের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য এক অন্যরকম মুগ্ধতা তৈরি করে। শুধু তাঁরাই নন, এ সময় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যেও দেখা যায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস। প্রকৃতির এমন নান্দনিক দৃশ্য উপভোগ করতে অনেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসেন ধরলা পাড়ে।
তাঁরা আরও বলেন, ধরলা সেতুর পাশে একটি বিনোদনকেন্দ্র থাকলে সেখানে বসে প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দীর্ঘক্ষণ উপভোগ করা যেত। এ সময় তাঁরা ধরলা নদীর পাড়ে একটি নান্দনিক মিনি বিনোদন পার্ক গড়ে তোলার দাবি জানান। তাঁদের মতে, এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।